বিআরটিসির বাস ও অ্যাম্বুলেন্স—কোনোটিরই ফিটনেস সনদ হালনাগাদ ছিল না

ফরিদপুরে বাসের সঙ্গে একটি অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের চারজনসহ মোট পাঁচজন নিহত হনছবি: প্রথম আলো

ফরিদপুরে মুখোমুখি সংঘর্ষ হওয়া বিআরটিসির বাস ও অ্যাম্বুলেন্স দুটির কোনোটিরও ফিটনেস সনদ হালনাগাদ ছিল না। এমনকি দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া আছে সরকারি করও।

আজ রোববার ফরিদপুরের নগরকান্দায় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে যাত্রীবাহী বিআরটিসি বাসের সঙ্গে একটি অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়েমুচড়ে যায়। নিহত হন এতে থাকা একই পরিবারের চারজন এবং চালক।

প্রতিটি দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন তৈরি করে। এতে ঘটনার বিবরণ, হতাহতের তথ্য এবং দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনের হালনাগাদ তথ্য থাকে। এই প্রতিবেদনেই দুটি যানের হালনাগাদ ফিটনেস সনদ এবং কর পরিশোধ না করার তথ্য পাওয়া গেছে।

সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বেসরকারি পরিবহনের জন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করার লক্ষ্যেই সরকারের পরিবহন সংস্থা বিআরটিসির জন্ম। এ জন্য সরকার নানা সময় ভর্তুকি দেয়। কিন্তু সরকারি সংস্থারই বাসের ফিটনেস সনদ হালনাগাদ না থাকা দৃষ্টিকটু।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আজ বিআরটিসির বাসটি ফরিদপুর থেকে ঢাকায় যাচ্ছিল। অন্যদিকে অ্যাম্বুলেন্সটি মাদারীপুর থেকে ফরিদপুরে আসছিল। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শংকরপাশা এলাকায় পৌঁছালে বাসটির সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়েমুচড়ে যায়। অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর থেকে চালকসহ পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। দুর্ঘটনায় বাসের কয়েকজন যাত্রী সামান্য আহত হয়েছেন। তবে বাসটির বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হয়নি।

বিআরটিএ সূত্র জানিয়েছে, বিআরটিসির বাসটির নিবন্ধন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৬৪৩৬। বাসটির ফিটনেস সনদের মেয়াদ ২০২৪ সালের অক্টোবরেই শেষ হয়েছে। এরপর আর ফিটনেস নবায়ন করা হয়নি। ২০২৩ সালের পর ট্যাক্স-টোকেনের সরকারি ফিও পরিশোধ করা হয়নি। ফলে বাসটি চলাচলের উপযোগী আছে কি না, সেটা নিশ্চিত নয় বিআরটিএ।

অন্যদিকে অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটির নিবন্ধন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ঠ-১১-১২২৯। ২০০৯ সালের পর আর কোনো দিন ফিটনেস সনদের জন্য বিআরটিএতে যায়নি।