ফিলিস্তিনিরা স্বাধীনতা, মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাবে: রাষ্ট্রদূত

দৃকপাঠ ভবনে ‘ফ্লোটিলা: বাংলাদেশ সেইলস ফর গাজা’ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রমাদান (বাঁ থেকে তৃতীয়), আলোকচিত্রী শহিদুল আলম (বাঁ থেকে পঞ্চম) ও অন্য অতিথিরা। পান্থপথ, ঢাকা; ১৪ আগস্ট ২০২৬ছবি: প্রথম আলো

দশকের পর দশক ধরে উচ্ছেদ ও সহিংসতার শিকার হলেও ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার সংগ্রাম থামবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রমাদান। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর পান্থপথে দৃকপাঠ ভবনে ‘দৃক পিকচার লাইব্রেরি’ আয়োজিত একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘যত কষ্ট বা ক্ষতিই হোক না কেন, ফিলিস্তিনিরা তাঁদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই থেকে পিছিয়ে যাবেন না।’

গাজায় ইসরায়েলি অবরোধ ভাঙার উদ্দেশ্যে সমুদ্রপথে যাত্রা, আন্তর্জাতিক জলসীমায় আটক, হয়রানি এবং কারাবাসের অভিজ্ঞতা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোকচিত্র ও ভিডিও প্রদর্শনী ‘ফ্লোটিলা: বাংলাদেশ সেইলস ফর গাজা’। ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের (এফএফসি) হয়ে অভিযানে অংশ নেওয়া তিন বাংলাদেশি ও ব্রিটিশ-বাংলাদেশি অ্যাক্টিভিস্টের অভিজ্ঞতা এখানে তুলে ধরা হয়েছে।

এই তিন অ্যাক্টিভিস্ট হলেন আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, ব্রিটিশ-বাংলাদেশি মোহাম্মদ আলী লিয়াকত ও জুবায়ের ইসলাম খান। ইসরায়েলি বাহিনী আন্তর্জাতিক জলসীমায় তাঁদের নৌযানটি আটক করে পরে তাঁদের কেৎজিয়েত কারাগারে বন্দী করে রাখে।

অনুষ্ঠানে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আপনাদের এই উপস্থিতি ফিলিস্তিনিদের ন্যায়বিচার ও স্বাধীনতার প্রতি সাধারণ মানুষের প্রতিশ্রুতিরই প্রমাণ।’ তিনি আরও বলেন, ফিলিস্তিনিরা কখনো ইতিহাস থেকে মুছে যাবেন না।

আলোকচিত্রী শহিদুল আলম বলেন, প্রদর্শনীতে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর এবং এ বছরের মে মাসের দুটি অভিযানের চিত্র স্থান পেয়েছে। তিনি বলেন, ‘যখন বিশ্বের অনেক দেশের সরকার নীরব ছিল, তখন বাংলাদেশের নেতারা সাহসী অবস্থান নিয়েছিলেন। তারেক রহমান আমাদের মিশনের সমর্থনে প্রথম দিকেই স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছিলেন। (সাবেক) অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসও আমাদের জোরালো সমর্থন জানান।’ সহযোদ্ধা লিয়াকতের সঙ্গে তাঁর প্রথম দেখা ইসরায়েলি কারাগারে হয়েছিল বলেও জানান শহিদুল আলম।

ব্রিটিশ-বাংলাদেশি মোহাম্মদ আলী লিয়াকত বলেন, ‘আমরা আটক, হয়রানি ও অপমানের শিকার হয়েছি। আমাদের সহযোদ্ধাদের খুব কাছ থেকে প্লাস্টিক বুলেট দিয়ে গুলি করা হয়েছিল। তবে আমাদের এই কষ্ট ফিলিস্তিনিদের প্রতিদিনের দুর্ভোগের তুলনায় কিছুই নয়।’

অপর ব্রিটিশ-বাংলাদেশি জুবায়ের ইসলাম খান বলেন, ‘এই মিশন আমাদের জাতীয় পতাকার প্রতিনিধিত্ব করার গভীর অনুভূতি এনে দিয়েছে। এটি মনে করিয়ে দেয় যে সাধারণ মানুষও চাইলে ইতিহাস বদলে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’

প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে আগামীকাল শনিবার সন্ধ্যা ছয়টায় দৃকপাঠ ভবনে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এতে তিন ফ্লোটিলা অ্যাক্টিভিস্ট তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন। প্রদর্শনীটি ২৯ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।