আবাসিক হোটেল ও বাসায় অভিযানে ঢাকায় আরও ৪২২ জন গ্রেপ্তার
বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে দ্বিতীয় দিনের মতো গতকাল বৃহস্পতিবার রাতেও পুলিশ রাজধানীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও বাসাবাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৪২২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ বলেছে, তাঁদের মধ্যে ৯০ জন পলিটিক্যাল অ্যারেস্ট (রাজনৈতিক গ্রেপ্তার)।
বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা তাঁদের নেতা-কর্মী। আজ শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনের মহাসমাবেশে তাঁরা যাতে যোগ দিতে না পারেন, সে জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে পুলিশ বলেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে অধিকাংশ বিভিন্ন মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি। অন্যদের ‘রাজনৈতিক’ কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে তৎপর ছিল।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) মোট কতজনকে গ্রেপ্তার করেছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। এই প্রতিবেদক ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ও ২১ থানায় খোঁজ নিয়ে ৪২২ জনকে গ্রেপ্তারের খবর পেয়েছেন। উল্লেখ্য, ঢাকায় থানার সংখ্যা ৫০টি।
এর আগে বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে গত মঙ্গলবার রাত থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ৪৪৭ ‘বিএনপির নেতা-কর্মী’কে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মো. ফারুক হোসেন আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপি যে অভিযোগ করছে, তা রাজনৈতিক বক্তব্য। যাঁরা আগুন সন্ত্রাস করেছেন, যাঁদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, যাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে, পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাত থেকে আজ সকাল পর্যন্ত ডিএমপির মিরপুর বিভাগের ছয় থানা এলাকায় ১৫৪, তেজগাঁও বিভাগের ছয় থানায় ৫১, যাত্রাবাড়ীতে ৩৭, ডেমরায় ৪১, পুরান ঢাকার কোতোয়ালি থানা এলাকায় ১৯, কদমতলীতে ১১, শ্যামপুরে ৬, কামরাঙ্গীরচরে ২৪, হাজারীবাগে ১৪, বনানীতে ৪৩ এবং গুলশান থানা এলাকা থেকে ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মতিঝিল এলাকা থেকে ডিবি ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
বিভিন্ন থানার পুলিশ গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ৯০ জনকে রাজনৈতিক কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে স্বীকার করেছে।
যেমন বনানী থানার কর্তব্যরত উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম রব্বানী প্রথম আলোকে বলেন, বনানী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে ‘রাজনৈতিক’ গ্রেপ্তার ৪০ জন।