প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক কমিশনের কমিশনার স্টিফেন স্নেক। প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন কুর্ট ওয়ার্থমুলার, প্যাট্রিক গ্রিনওয়াল্ট ও টম ব্রাউনস। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।

মার্কিন প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য দেন ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত। এ সময় তিনি বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ধর্মীয় জাতিগত সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের অধিকার লঙ্ঘনের চিত্র তুলে ধরেন।

রানা দাশগুপ্ত বলেন, রাষ্ট্রধর্ম শুধু ধর্মের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ বাঙালি জাতিসত্তার বিভাজন টানেনি, ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছে। রাজনীতি ও রাষ্ট্রচর্চায় ধর্মের অপব্যবহার সাম্প্রদায়িকতাকে তৃণমূলে ছড়িয়ে দিয়েছে। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে সংখ্যালঘুরা তাঁদের জীবন, সম্পদ ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

অব্যাহতভাবে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী যে দেশত্যাগে বাধ্য হচ্ছে, বাংলাদেশের পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক জনশুমারিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জনসংখ্যার হার কমা থেকে তা সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয় বলেও মন্তব্য করেন রানা দাশগুপ্ত। এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত গণহত্যাকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান এবং এ ব্যাপারে দুজন সিনেটর সিনেটে বিল উত্থাপন করায় তাঁদের ধন্যবাদ জানান।

ধর্মীয় স্বাধীনতাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে উল্লেখ করে সভায় যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক কমিশনের কমিশনার স্টিফেন স্নেক বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংখ্যালঘুদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতার উন্নয়নের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের গভীর আগ্রহ রয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক নিমচন্দ্র ভৌমিক ও নির্মল রোজারিও, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজল দেবনাথ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ, বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি জে এল ভৌমিক প্রমুখ।