জামিন পাওয়া অপর ছয়জন হলেন—ছাত্র অধিকারের সাদ্দাম হোসেন, আবদুল কাদের, তরিকুল ইসলাম, আসিফ মাহমুদ, জাহিদ হোসেন ও সানাউল্লাহ।

আদালত–সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই দুই মামলায় আজ ছাত্র অধিকারের আখতার ও আকরামের জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত প্রত্যেকের এক হাজার টাকা মুচলেকায় তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন।

এ দুই মামলায় গ্রেপ্তার ছাত্র অধিকারের অপর ১৬ জনের জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হবে ১৪ নভেম্বর। আসামি পক্ষের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, শাহবাগ থানার পৃথক দুটি মামলায় ছাত্র অধিকারের আটজনের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। বাকিদের শুনানি ১৪ নভেম্বর।

গত ৭ অক্টোবর বিকেলে ‘আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদ’-এর ব্যানারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যার তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে স্মরণসভার আয়োজন করে ছাত্র অধিকার পরিষদ। সেখানে ছাত্রলীগ হামলা করে তাদের ধাওয়া দিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়। হামলায় পরিষদের অন্তত ১৫ নেতা-কর্মী আহত হন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানে গিয়েও তাঁদের পেটায় ছাত্রলীগ। বিকেলে মেডিকেল থেকে পরিষদের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীকে আটক করে শাহবাগ থানার পুলিশ।

পরে ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের নামে দুটি মামলা করেন ছাত্রলীগের দুই নেতা। দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পরদিন সকালে ছাত্র অধিকার পরিষদের ২৪ নেতা-কর্মীকে আদালতে পাঠায় শাহবাগ থানার পুলিশ।

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদের স্মরণসভায় ছাত্রলীগের হামলা ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারামারির ঘটনায় ছাত্রলীগের ১৪ নেতা-কর্মীর নামে ১৮ অক্টোবর মামলার আবেদন করেন ছাত্র অধিকারের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা। আদালত ওই আবেদন খারিজ করে দেন।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হল থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আসামিরা সবাই বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত নেতা-কর্মী।