এক বছরে ২৭ হাজার অগ্নিকাণ্ড, সম্পদহানি ৫৭০ কোটি টাকার
গত এক বছরে সারা দেশে ২৭ হাজার ৫৯টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে আনুমানিক ৫৬৯ কোটি ৯৭ লাখ ৭ হাজার ৮৬৪ টাকার সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রধান কারণ হিসেবে বৈদ্যুতিক গোলযোগ, বিড়ি-সিগারেটের জ্বলন্ত টুকরা, চুলা ও গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। আজ মঙ্গলবার অধিদপ্তরের মিডিয়া সেল থেকে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর সারা দেশে গড়ে প্রতিদিন ৭৫টি আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৯ হাজার ৩৯২টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে, যা মোট ঘটনার ৩৪ দশমিক ৭১ শতাংশ। বিড়ি-সিগারেটের জ্বলন্ত টুকরা থেকে ৪ হাজার ২৬৯টি (১৫.৭৮ শতাংশ) এবং চুলা থেকে ২ হাজার ৯০৯টি (১০.৭৫ শতাংশ) অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে।
এ ছাড়া রাসায়নিক দুর্ঘটনা থেকে ৩৮টি, ছোটদের আগুন নিয়ে খেলার কারণে ৬০৮টি, উত্তপ্ত ছাই থেকে ৩৫৬টি, মশার কয়েল থেকে ৪৯৩টি এবং আতশবাজি, ফানুস ও পটকা পোড়ানো থেকে ১০৯টি আগুনের ঘটনা ঘটে।
তবে ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় ৩ হাজার ২৬৩ কোটি ৬২ লাখ টাকার সম্পদ বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত এক বছরে দেশে ৮৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৬ জন পুরুষ ও ৩৯ জন নারী। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ২৬৭ জন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৯৭ জন পুরুষ ও ৭০ জন নারী।
আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডে ২২ জন নিহত ও ৭৭ জন আহত এবং রাসায়নিক দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত ও ২ জন আহত হয়েছেন।
একটি বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩৫ জন এবং আহত হয়েছেন ১১৬ জন। অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকাজে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১৭ জন কর্মী আহত এবং ৩ জন নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবহনে আগুনের পরিসংখ্যান নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর সারা দেশে বাসে ১৫৩টি, অন্যান্য যানবাহনে ২১৬টি, ট্রেনে ১০টি, লঞ্চে ৪টি, জাহাজে ২টি এবং ১টি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আগুনের ঘটনা ঘটে। আর মাসের হিসাবে মার্চে সবচেয়ে বেশি ৩ হাজার ৫২২টি আগুনের ঘটনা ঘটেছে।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বাসাবাড়ি বা আবাসিক ভবনে সবচেয়ে বেশি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এক বছরে বাসাবাড়িতে মোট ৮ হাজার ৭০৫টি আগুন লাগে, যা মোট আগুনের ঘটনার ৩২.১৭ শতাংশ। এ ছাড়া খড়ের গাদায় ৩ হাজার ৯২২টি, দোকানে ১ হাজার ৮০০টি, হাটবাজারে ১ হাজার ৬৭টি, শপিং মলে ৬১৭টি, পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠানে ৬৬৫টি, পোশাকশিল্প ব্যতীত কলকারখানায় ৬১৫টি, গ্যাস সিলিন্ডারের দোকানে ৪৮৩টি, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে ১২২টি, বহুতল ভবনের আগুন (৬ তলার ওপরে) ৭১টি, রেস্টুরেন্ট ও হোটেলে ১৫৫টি, সরকারি প্রতিষ্ঠানে ১৫২টি, সরকারি হাসপাতালে ৩৪টি, বেসরকারি হাসপাতালে ২৫টি, ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ৭২টি, পাট গুদাম-পাটকলে ১২২টি, কেমিক্যাল গোডাউন বা দোকানে ৩৬টি, বস্তিতে ৯১টি, মসজিদে ২৫টি, মন্দিরে ৯টি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১২৩টি এবং এসিতে ৬২টি আগুনের ঘটনা ঘটেছে।
ভবন পরিদর্শনের তথ্যে জানানো হয়েছে, গত এক বছরে সারা দেশে ১০ হাজার ৫৩৩টি ভবন পরিদর্শন করেছে ফায়ার সার্ভিস। অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিদর্শন করা ভবনগুলোর মধ্যে ৩ হাজার ৩১৬টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৬২২টিকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তবে ৬ হাজার ৫৯৫টি ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা–ব্যবস্থা সন্তোষজনক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।