১৪ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের পানি সরবরাহ শাখা থেকে তাকসিম এ খানের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের অনুমতিপত্র জারি করা হয়। তাতে বলা হয়, পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এবং নিজের চিকিৎসা করাতে ছয় সপ্তাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন তিনি। ছুটিতে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার ঠিক এক সপ্তাহের মাথায় ঢাকা ওয়াসা এমডির শিক্ষাসফরের দলে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জাপানে শিক্ষাসফরের বিষয়টি অনুমোদনের জন্য এটির সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। সফরের তালিকাতে ঢাকা ওয়াসার এমডির নামও ছিল। এমডি ছুটিতে থাকায় তাঁর নাম তালিকা থেকে বাদ যাবে বলে ধারণা করেছিলেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এমডির নামসহ তালিকা অনুমোদন দেওয়া হয়। ফলে সেভাবেই আদেশ জারি করে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

তাকসিম এ খান বর্তমানে ডেনমার্কে অবস্থান করছেন। ড্যানিশ ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির (ডানিডা) একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ১৮ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি ডেনমার্কে অবস্থান করবেন। এ সফরের অনুমতিও দেয় স্থানীয় সরকার বিভাগ। তাকসিম এ খানের ডেনমার্ক সফরের খরচ বহন করছে ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান।

ছুটিতে থেকেও ওয়াসা এমডির শিক্ষাসফরে যাওয়ার বিষয়ে কথা বলতে স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাইরুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ঢাকা ওয়াসার উপপ্রধান জনতথ্য কর্মকর্তা এ এম মোস্তফা তারেক প্রথম আলোকে বলেন, এই জাপান সফরে ঢাকা ওয়াসার সংশ্লেষ থাকায় এমডি ও আরেকজন কর্মকর্তা যাচ্ছেন। সরকারি নিয়মনীতি মেনেই সবকিছু করা হয়েছে, নিয়মের কোনো ব্যত্যয় হয়নি।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও ওয়াসার এমডি জাপান সফরে কী শিক্ষা অর্জন করবেন, সরকারের আদেশে সে বিষয়টির উল্লেখ নেই। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা ওয়াসার পয়োনিষ্কাশন মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী রাজধানীর চারপাশে পাঁচটি পয়ঃশোধনাগার করা হবে। একটি পয়ঃশোধনাগার নির্মাণে অর্থায়ন করবে এডিবি। এই জাপান সফরের অর্থায়নও করছে এডিবি। টোকিও মেট্রোপলিটনের ব্যুরো অব সুয়ারেজের আওতাধীন পয়ঃশোধনাগার কীভাবে নির্মিত হয়েছে এবং সেগুলোর কাজের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে পাঁচ সদস্যদের এ সফর।

চলতি মাসের ৭ তারিখ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে করা আবেদনে যুক্তরাষ্ট্রে বসে অফিস করার অনুমতি চেয়েছিলেন তাকসিম এ খান। তবে অন্য কাউকে এমডির দায়িত্ব না দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসে ‘অন ডিউটি’তে থাকার আবেদন নাকচ করে দেয় ঢাকা ওয়াসা বোর্ড। তাকসিম এ খানের ছুটিতে থাকার সময় সংস্থাটির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ) এ কে এম সহিদ উদ্দিনকে এমডির অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন