মানুষ মরে, বিচার হয় না, পাচার থামে না

ছেলে সাজিদুর রহমানকে গ্রিসে পাঠাতে সহায়-সম্বল বিক্রি করতে হয়েছে সত্তরোর্ধ্ব আবদুল গণিকে। সেই ছেলে ভূমধ্যসাগরে মারা গেলেন। এখন মুঠোফোনে ছেলের ছবি দেখেন আর কাঁদেন এই বাবা। গতকাল বিকেলে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামেছবি: প্রথম আলো

কথা ছিল সমুদ্রপথে ইতালি নেওয়া হবে। তবে পটুয়াখালীর দেলোয়ার হোসেনকে পাঠানো হয়েছিল লিবিয়ায়। সেখানে তাঁর স্থান হয় কারাগারে। বহুদিন কারাগারে কাটানোর পর গত সপ্তাহে দেশে ফেরেন তিনি।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কাউয়ারচরে গত ৩১ জানুয়ারি কথা হয়েছিল দেলোয়ার হোসেনের মা সুফিয়ার সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘সমিতি ও পরিচিতদের থেকে সুদে পাঁচ লাখ টাহা নিয়া পোলারে বিদেশ পাডাইছি (পাঠিয়েছি)। পোলা বিপদে পড়ছে। লোনের টাহাও দিতে পারতেছি না।’

কাজের খোঁজে বিদেশে যেতে আগ্রহী বাংলাদেশি তরুণেরা দেলোয়ারের মতো দালালের হাতে টাকা তুলে দিচ্ছেন। দালালেরা তাঁদের বিদেশে নেওয়ার কথা বলে অনেক ক্ষেত্রে ঠেলে দিচ্ছেন অনাহারে মৃত্যুর মুখে। কেউ কেউ বিভিন্ন দেশে পৌঁছাতে পারছেন, তবে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় অনেককে কারাগারে অমানবিক অবস্থায় থাকতে হচ্ছে। কখনো কখনো পথে অপহরণ করে নির্যাতনের মাধ্যমে পরিবারের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে মুক্তিপণ। জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করার ঘটনাও ঘটছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, মানব পাচার এখন বিস্তৃত হয়ে একটি সংগঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ নেটওয়ার্কে রূপ নিয়েছে। এর শিকার হয়ে অনেকে প্রাণ হারাচ্ছেন সমুদ্রপথে। এর সর্বশেষ উদাহরণ লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে ভেসে থাকা অন্তত ২২ অভিবাসীর মৃত্যু অথবা নিখোঁজের ঘটনা, যার মধ্যে ২০ জনই বাংলাদেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২৬ মার্চ গ্রিসের উপকূলে অভিযানে ৪৮ আরোহীর মধ্যে মাত্র ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। বাকি ২২ জনের খোঁজ পাওয়া যায়নি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের পাঁচ বছরের (২০২০-২৪) ৪ হাজার ৪২৭ মামলার পরিসংখ্যান বলছে, এসব মামলার ৯৪-৯৫ শতাংশ আসামি খালাস পেয়ে যান। অর্থাৎ কঠোর শাস্তির হার তুলনামূলকভাবে খুবই কম।

মানব পাচারের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এমন অনেক ঘটনায় মামলাই হচ্ছে না। কিছু ঘটনায় মামলা হলেও আসামি গ্রেপ্তারের হার খুবই কম। আবার বিভিন্ন পক্ষের সহযোগিতা ও উদাসীনতায় প্রকৃত অপরাধীরা ছাড়া পেয়ে যাচ্ছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের পাঁচ বছরের (২০২০-২৪) ৪ হাজার ৪২৭ মামলার পরিসংখ্যান বলছে, এসব মামলার ৯৪-৯৫ শতাংশ আসামি খালাস পেয়ে যান। অর্থাৎ কঠোর শাস্তির হার তুলনামূলকভাবে খুবই কম। পাচারকারীরা কম শাস্তি অথবা সাজা না হওয়ায় মানব পাচারে উৎসাহিত হন, যেখান থেকে বড় আয় করেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, পাচারকারীদের বিচার ও শাস্তি না হওয়ায় মানব পাচার থামানো যাচ্ছে না।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) মানব পাচারবিরোধী ইউনিটের (টিএইচবি) এক হিসাবও এ-সংক্রান্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারার ইঙ্গিত দেয়। তাদের দেওয়া ২০১৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময়কার ৫৩৬টি মামলার পরিসংখ্যান বলছে, এসব মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে ১ হাজার ৬৫৭ জনকে; কিন্তু গ্রেপ্তার করা গেছে মাত্র ৩৫৩ জনকে।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, মানব পাচার আন্তরাষ্ট্রীয় অপরাধ হওয়ার কারণে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অপরাধ প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যায় না। সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোতে পুলিশের প্রতিনিধি না থাকায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় অপরাধ প্রমাণ অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। তদন্তকারীরাও চাইলেই ঘটনাস্থলে যেতে পারেন না।

পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি ও সিআইডির সাবেক প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, অনেক মামলার ঘটনাস্থল দেশ এবং দেশের বাইরে—এ কারণে প্রমাণাদি হাজির করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আর ঠিকভাবে এটি করতে না পারলে মামলা দুর্বল হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী টাকা পেলে আপস-মীমাংসা করে ফেলেন। এ ধরনের দুর্বলতার কারণে আসামিরা খালাস পেয়ে যান। এ প্রক্রিয়াগুলোতে বিশেষভাবে নজর দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইতালিতে মানব পাচারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে নেপাল, ভারত বা শ্রীলঙ্কা হয়ে দুবাই (সংযুক্ত আরব আমিরাত) নেওয়া হয়। এরপর মিসর বা তিউনিসিয়া হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে রাখা হয় বাংলাদেশি তরুণদের। সেখান থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে নেওয়া হয় ইতালিতে। সিআইডির তথ্য বলছে, গত এক বছরে এভাবে ১৭ হাজারের বেশি বাংলাদেশিকে ইতালি পাঠানো হয়েছে।

পাচারের পথ

আকাশপথ, সমুদ্রপথ ও স্থলপথ—এ তিন পথেই বাংলাদেশ থেকে মানব পাচার হচ্ছে। ২৫টি ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পাচারকারীরা সরাসরি কোনো দেশে না নিয়ে একাধিক দেশের মাধ্যমে ধাপে ধাপে ভুক্তভোগীদের গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছে। এর মাধ্যমে এমন জটিল রুট তৈরি করছে, যাতে তদন্ত কঠিন হয়ে যায়।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইতালিতে মানব পাচারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে নেপাল, ভারত বা শ্রীলঙ্কা হয়ে দুবাই (সংযুক্ত আরব আমিরাত) নেওয়া হয়। এরপর মিসর বা তিউনিসিয়া হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে রাখা হয় বাংলাদেশি তরুণদের। সেখান থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে নেওয়া হয় ইতালিতে। সিআইডির তথ্য বলছে, গত এক বছরে এভাবে ১৭ হাজারের বেশি বাংলাদেশিকে ইতালি পাঠানো হয়েছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পাচারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে থাইল্যান্ড হয়ে কম্বোডিয়া বা লাওসে পাঠানো হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে ব্রাজিল, তারপর মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের একটি রুট সক্রিয় রয়েছে। একইভাবে সার্বিয়া ও মেসিডোনিয়ায় পৌঁছাতে বাংলাদেশ থেকে দুবাই ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কক্সবাজার উপকূল ব্যবহার করে সমুদ্রপথে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নেওয়া হচ্ছে। স্থলপথে ভারতের সীমান্ত ব্যবহার করে পাচারের ঘটনা ঘটছে সবচেয়ে বেশি।

অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়া হয়ে ইন্দোনেশিয়া নেওয়া হয়, পরে সেখান থেকে ঝুঁকিপূর্ণ পথে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়। ২০২৪ সালে এভাবে ৪১ জন বাংলাদেশিকে উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে মালয়েশিয়া থেকে প্রথমে ইন্দোনেশিয়ায় নেওয়া হয়। সেখান থেকে সমুদ্রপথে তাঁদের অস্ট্রেলিয়ার ক্রিসমাস দ্বীপে পাচার করা হয়। পরে দেশে আদায় করা হয় মুক্তিপণ।

কানাডায় পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ-নেপাল রুট ব্যবহার করা হচ্ছে। রাশিয়াগামীদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরব হয়ে রাশিয়ায় নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। যেমন ২০২৪ সালে চকলেট কারখানায় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশিদের রাশিয়ায় নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য করার একটি ঘটনায় দুজন গ্রেপ্তার হন। তাঁদের মধ্যে একজন রুশ নাগরিক।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পাচারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে থাইল্যান্ড হয়ে কম্বোডিয়া বা লাওসে পাঠানো হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে ব্রাজিল, তারপর মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের একটি রুট সক্রিয় রয়েছে। একইভাবে সার্বিয়া ও মেসিডোনিয়ায় পৌঁছাতে বাংলাদেশ থেকে দুবাই ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কক্সবাজার উপকূল ব্যবহার করে সমুদ্রপথে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নেওয়া হচ্ছে। স্থলপথে ভারতের সীমান্ত ব্যবহার করে পাচারের ঘটনা ঘটছে সবচেয়ে বেশি।

আরও পড়ুন

লিবিয়া যেন মৃত্যুফাঁদ

লিবিয়া এখন বাংলাদেশিদের জন্য মানব পাচারের সবচেয়ে বিপজ্জনক গন্তব্যগুলোর একটি। সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে লিবিয়া থেকে মোট ৬ হাজার ২৬০ জন বাংলাদেশিকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২২ সালে ১৪৩ জন, ২০২৩ সালে ৬৪৬ জন, ২০২৪ সালে ২ হাজার ৮ জন এবং ২০২৫ সালে ৩ হাজার ৪৬৩ জন দেশে ফিরেছেন। এই পরিসংখ্যান বলছে, পাচারের প্রবণতা কমার বদলে বরং বেড়েছে।

২০২০ সালের ২৮ মে লিবিয়ার মিজদা শহরে মানব পাচারকারী মাফিয়া চক্রের হাতে ২৬ বাংলাদেশি নিহত হন। ঘটনাটি দেশে-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। তখন দেশের বিভিন্ন থানায় অন্তত ২৫টি মামলা করেছিলেন ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় সিআইডি মোট ১৪টি মামলা তদন্ত করে, যেখানে আসামি করা হয় ২২২ জনকে। তাঁদের মধ্যে ১৩৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনের নামে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ভূমধ্যসাগরে ডুবে মারা গেছেন ৫৫৯ জন। গত বছরের একই সময়ে ভূমধ্যসাগরে মৃতের সংখ্যা ছিল ২৮৭।

লিবিয়া থেকে ফেরত আসা ৫৫৭ বাংলাদেশির যাত্রা, গন্তব্য, অর্থ, নিপীড়ন, উদ্ধার থেকে শুরু করে প্রত্যেকের ৫০ ধরনের তথ্য নিয়ে ২০২৪ সালে একটি গবেষণা করে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক। সেখানে উঠে এসেছে, বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে যাঁদের লিবিয়ায় নেওয়া হয়েছে, তাঁদের ৬৩ শতাংশই বন্দী হয়েছেন। ৫৪ শতাংশই বলেছেন, তাঁরা কখনো তিন বেলা খাবার পাননি। অন্তত ২২ শতাংশ দিনে মাত্র এক বেলা খাবার পেয়েছেন। যাঁরা বন্দী হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ৯৩ শতাংশ ক্যাম্পে বন্দী ছিলেন। ৭৯ শতাংশ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ভূমধ্যসাগরে ডুবে মারা গেছেন ৫৫৯ জন। গত বছরের একই সময়ে ভূমধ্যসাগরে মৃতের সংখ্যা ছিল ২৮৭।

পাচারের ধরন বদলাচ্ছে

প্রতিনিয়তই মানব পাচারের অপরাধের ধরন বদলাচ্ছে। এই অপরাধের সঙ্গে এখন স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি বিদেশি নাগরিকদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। কেবল ভালো চাকরি ও উচ্চ আয়ের প্রলোভনই নয়, বিদেশে পড়াশোনা ও বিয়ের মাধ্যমে স্থায়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েও মানব পাচারের ঘটনা ঘটছে।

সিআইডির তথ্য বলছে, গত বছর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে চীনে মানব পাচারের ঘটনায় দুই চীনা নাগরিকসহ মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই ঘটনায় পাচারের শিকার এক ভুক্তভোগীকে চীন থেকে উদ্ধার করা হয়।

মানব পাচারের রুট এখন বহুমাত্রিক ও বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হচ্ছে। একটি দেশের চক্রের সঙ্গে অন্য দেশের চক্রের সরাসরি সংযোগ থাকে না। ফলে আন্তর্জাতিক সমন্বয় ছাড়া এই নেটওয়ার্ক দমন করা কঠিন।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা রামরুর নির্বাহী পরিচালক তানসিম সিদ্দিকী

আবার পাচারের আগেই জাল ভিসা তৈরি করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিতে গড়ে উঠেছে আরেকটি চক্র। জাল ভিসা তৈরি করে অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপে লোক পাঠানোর নামে প্রতারণা করা একটি মানব পাচার চক্রের দুই সদস্যকে গতকাল সোমবার গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে র‍্যাব। এই চক্র ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করত বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

সিআইডির বিশ্লেষণে দেশের সাতটি জেলা মানব পাচারের ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সেগুলো হলো মাদারীপুর, শরীয়তপুর, যশোর, কক্সবাজার, কুমিল্লা, সিলেট ও ফরিদপুর। এ জেলাগুলোতে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা বেশি। পাচারকারীরা স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে সহজেই ভুক্তভোগী সংগ্রহ করে।

মানব পাচারের অপরাধ নিয়ে বিশেষভাবে কাজ করে সিআইডি। সংস্থাটি শিশু পাচার রোধে টিএইচবি মুন অ্যালার্ট নামে বিশেষ উদ্ধার কার্যক্রম চালু করেছে। মানব পাচার প্রতিরোধে সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি বিশেষ কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। এতে কিছু মানব পাচারের ঘটনা মোকাবিলা করা গেছে। তবে মোট মানব পাচারের ঘটনার তুলনায় রোধের হার খুবই কম।

সিআইডির বিশ্লেষণে দেশের সাতটি জেলা মানব পাচারের ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সেগুলো হলো মাদারীপুর, শরীয়তপুর, যশোর, কক্সবাজার, কুমিল্লা, সিলেট ও ফরিদপুর। এ জেলাগুলোতে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা বেশি। পাচারকারীরা স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে সহজেই ভুক্তভোগী সংগ্রহ করে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা রামরুর নির্বাহী পরিচালক তানসিম সিদ্দিকী প্রথম আলোকে বলেন, মানব পাচারের রুট এখন বহুমাত্রিক ও বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হচ্ছে। একটি দেশের চক্রের সঙ্গে অন্য দেশের চক্রের সরাসরি সংযোগ থাকে না। ফলে আন্তর্জাতিক সমন্বয় ছাড়া এই নেটওয়ার্ক দমন করা কঠিন। বর্তমান বৈশ্বিক ব্যবস্থাও এ ক্ষেত্রে কার্যকরভাবে কাজ করছে না। তাঁর মতে, রাষ্ট্র যদি কঠোর অবস্থান নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে জবাবদিহির আওতায় আনতে পারে, তবে অন্তত দেশের ভেতর থেকে মানব পাচার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।