গত ১৪ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টিভস) ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বাংলাদেশে চালানো গণহত্যাকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে একটি প্রস্তাব আনা হয়। এ প্রস্তাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে গণহত্যার স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়। কংগ্রেসম্যান রো খান্না এবং কংগ্রেসম্যান স্টিভ চ্যাবট ১৪ অক্টোবর নিম্নকক্ষে প্রস্তাবটি তোলেন। প্রস্তাবে গণহত্যার জন্য পাকিস্তান সরকারকে বাংলাদেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার কথাও বলা হয়।

পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, সম্প্রতি মার্কিন সিনেটের দুই সদস্য একাত্তরে বাংলাদেশে ‘জেনোসাইড’ হয়েছে মর্মে স্মারক পেশ করেছেন। ৫০ বছর পর হলেও একটি সম্ভাবনাময় পদক্ষেপ এটি। জুনিয়র কেনেডি বাংলাদেশে সম্প্রতি সফরকালে বলেছেন, একাত্তরে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রতি ভুল নীতি অনুসরণ করেছিল। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সম্প্রতি বলেছেন, একাত্তরে বাংলাদেশের সঙ্গে ন্যায়বিচার হয়নি। এসব ঘটনার মাধ্যমে পশ্চিমা বিশ্বসহ জাতিসংঘের একাত্তরের ‘জেনোসাইড’ স্বীকৃতির সম্ভাবনা বেড়েছে।

পঙ্কজ ভট্টাচার্য আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বহুমাত্রিক লাগাতার উদ্যোগ গ্রহণ করুন। পাকিস্তানকে গণহত্যার জন্য দুঃখ প্রকাশ এবং বাংলাদেশের অর্জিত সম্পদ বাংলাদেশকে ফেরত দিতে বাধ্য করুন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে একাত্তরে পাকিস্তানের প্রতি তাদের সমর্থনদানের ভুল স্বীকৃতি আদায় করুন। গণহত্যার শিকার লাখ লাখ শহীদ ও সম্ভ্রমহারা নারী এবং স্বাধীনতাকামী দেশবাসীর প্রতি প্রকৃত জাতীয় কর্তব্য পালন এবং ইতিহাসের দায় মোচনের এটি একটি পদক্ষেপ হবে।’