দেশে চিকিৎসায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক রোবট ব্যবহার শুরু
দেশে চিকিৎসার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক রোবটের ব্যবহার শুরু হয়েছে। জুলাই আন্দোলনে আহত ব্যক্তিরা প্রথম এই আধুনিক প্রযুক্তির সেবা পেয়েছেন। রোববার সকালে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে রোবোটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরহাজান বেগম, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. সায়েদুর রহমান ও ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এই রোবোটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছে চীন সরকার।
উদ্বোধনের সময় অন্যদের মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. শাহিনুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
রোবোটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার উদ্বোধনের পর আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এই কেন্দ্রটি শুধু নিরাময়ের জায়গা হিসেবে বিবেচিত হলে চলবে না। এটিকে গড়ে তুলতে হবে অনেক স্বপ্ন বাস্তবায়নের কেন্দ্র হিসেবে। চীন সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেন, চীন সরকার ৫৭টি রোবট দিয়েছে। রোবট পরিচালনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। সেই কেন্দ্রটি যেন স্থায়ী ও টেকসই হয় সে ব্যাপারেও চীনা সরকার সহায়তা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪ জন স্টাফকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে চীনের অবদান ও সহায়তার বিষয় তুলে ধরার পাশাপাশি রাষ্ট্রদূত বলেন, চীনে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য বাংলাদেশিদের জন্য গ্রিন চ্যানেলের ব্যবস্থা করেছে চীন সরকার। বাংলাদেশের নাগরিকেরা চীনের যেকোনো হাসপাতালে চিকিৎসা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও রোগ নির্ণয় করাতে পারবেন। আশা করা যায়, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে চার থেকে পাঁচ হাজার বাংলাদেশি চিকিৎসার জন্য চীন সফর করবেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশকে দেওয়া রোবটের মধ্যে ২২টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক। এসব রোবট ব্যবহার করে স্ট্রোকের রোগী, মেরুদণ্ডে আঘাত পাওয়া ব্যক্তি, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের সেবা দেওয়া হবে। শুধু পায়ের বা শুধু হাতের সমস্যায় সহায়তা করতে পৃথক রোবট আছে। হাত–পায়ের সন্ধিস্থল শক্ত হওয়ার সমাধানও পাওয়া যাবে এতে। যেকোনো ধরনের পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগী এখানে সেবা পাবেন। এই সেন্টারে জুলাই আন্দোলনে আহত ব্যক্তিরা বিনা মূল্যে সেবা পাবেন। সাধারণ রোগীদের সেবা দেওয়া হবে সাশ্রয়ী মূল্যে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক মো. সায়েদুর রহমান বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রযুক্তি স্থানান্তরের কেন্দ্রস্থল হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সর্বসাম্প্রতিক চিকিৎসা প্রযুক্তি ব্যবহারের উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়কে।
অনুষ্ঠানের শুরুর দিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান রোবোটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠার জন্য চীন সরকারকে ধন্যবাদ দেন। তিনি বলেন, যেকোনো জরুরি প্রস্ততিতে চীন বাংলাদেশের পাশে থেকেছে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. শাহিনুল আলম বলেন, এই সেন্টার স্থাপনের মধ্য দিয়ে স্বপ্ন তৈরি হয়েছে। এই প্রযুক্তির সুফল যেন সারা দেশের মানুষ পেতে পারেন, তেমন উদ্যোগ নেবে বিশ্ববিদ্যালয়।