জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতফাইল ছবি
প্রথম আলোকে নির্ভরযোগ্য সূত্র হিসেবে পেতে হলেএখানে ক্লিক করুন

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অব্যাহতভাবে বৃদ্ধির কারণেই দেশে দাম বাড়াতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকট প্রতিদিন নতুন মাত্রায় আবির্ভূত হচ্ছে। তেলের দাম বাড়ছে, জাহাজভাড়া বাড়ছে। এই মুহূর্তে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করা ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না।

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে আজ সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এ সময় তিনি বলেন, উপায়হীন না হলে এই অজনপ্রিয় সিদ্ধান্তটি সরকার নিতে চাইবে না কিংবা নেবে না।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা লোকসান দিতে হয়েছে। বিশ্ববাজারের সঙ্গে মিল রেখে দাম সমন্বয় না করায় প্রতি মাসে ৩ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা লোকসান করতে হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের যে কষ্ট হবে, রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তা উপলব্ধি করতে পারেন তিনি। তাই জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, বছরে প্রায় ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়, যার মধ্যে ৪৫ লাখ টন ডিজেল। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি লিটার ডিজেলের মূল্য গড়ে ২০৫ টাকা। এ দফায় সমন্বয়ের আগে ডিজেল বিক্রি হয়েছে ১১৫ টাকায়। দাম সমন্বয়ের পরও প্রতি লিটারে লোকসান করতে হচ্ছে ৭০ টাকা। আগে এ লোকসান ছিল ৯০ টাকা। দাম সমন্বয় না হলে শুধু ডিজেলে বছরে ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান দিতে হতো। সব তেল মিলে এটি হতো ৫০ হাজার কোটি টাকা।

আরও পড়ুন

জ্বালানি তেলে ভর্তুকি অব্যাহত রাখলে সামাজিক নিরাপত্তার কার্যক্রম ভীষণভাবে বিঘ্নিত হতে পারে উল্লেখ করে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, অসচ্ছল পরিবারগুলোকে পারিবারিক কার্ডের আওতায় আনতে চায় সরকার। আসলে কোনো বিকল্প সামনে না থাকায় তেলের দাম বাড়ানোর মতো এ রকম একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়েছে। দেশবাসী সেটি উপলব্ধি করবেন বলে আশা করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী দেশ ভারতের কলকাতায় ডিজেলের মূল্য ১৩৪ টাকা। মিয়ানমারে ১৬৪ টাকা, নেপালে ১৬১ টাকা, শ্রীলঙ্কায় ১৭৯ টাকা, থাইল্যান্ডে ১৫১ টাকা, ভিয়েতনামে ১৩৭ টাকা। বাংলাদেশেই জ্বালানি তেলের মূল্য সর্বনিম্ন পর্যায়ে ছিল। জ্বালানি তেল প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোতে পাচার হওয়ার একটা বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোতে যাতে তেল পাচার না হয়, তাই সরকারকে এই জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণ এটি বুঝতে সক্ষম হবে। তবে দাম বাড়ানোর অভিঘাত সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।