বেসরকারি সাবমেরিন কেব্ল কোম্পানি বাজারে এলে ইন্টারনেটের দাম কতটা কমবে
বেসরকারি সাবমেরিন কেব্ল কোম্পানি বাজারে এলে ইন্টারনেটের দাম ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমবে বলে দাবি করেছেন ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর (আইএসপি) সংগঠন আইএসপিএবির সভাপতি আমিনুল হাকিম। তাঁর যুক্তি, আইএসপি অপারেটররা বর্তমানে যে দামে ব্যান্ডউইথ ক্রয় করে, বেসরকারি সাবমেরিন কেব্ল কোম্পানি বাজারে এলে তার অর্ধেক দামে ব্যান্ডউইথ কিনতে পারবে।
আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সবার জন্য সাশ্রয়ী ইন্টারনেট: টেক জায়েন্টদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে বাধা ও সমাধান কোথায়?’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। সভার আয়োজক টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি)।
আমিনুল হাকিম বেসরকারি সাবমেরিন কেব্ল কোম্পানি মেটাকোর সাবকম লিমিটেডেরও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। সভায় তিনি বলেন, বর্তমানে আইএসপিরা প্রতি এমবিপিএস ব্যান্ডউইথ ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় কেনে। বেসরকারি সাবমেরিন বাজারে এলে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের সরবরাহ বাড়বে। একাধিক উৎস তৈরি হবে এবং বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে। তখন এই দাম ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাবে।
দেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে ব্যান্ডউইথের চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন আমিনুল হাকিম। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ব্যান্ডউইথের চাহিদা প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ জিবিপিএস। তাঁর হিসাবে, ২০৩০ সালে দেশে ব্যান্ডউইথের চাহিদা ৫০ থেকে ৫৪ হাজার জিবিপিএসে পৌঁছাতে পারে। ফলে ভবিষ্যতের চাহিদা মেটাতে একাধিক সাবমেরিন কেব্ল ও আন্তর্জাতিক সংযোগের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
বর্তমানে দেশের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ব্যান্ডউইথ ভারত থেকে আমদানি করতে হচ্ছে উল্লেখ করে আমিনুল হাকিম বলেন, গুগল, মেটা, আকামাই ও ক্লাউডফ্লেয়ারের মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের সেবা ও অবকাঠামোর সঙ্গে এই আন্তর্জাতিক সংযোগের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তবে বিএসসিপিএলসির মনোপলি নির্ভর পরিবেশ, আন্তর্জাতিক সংযোগের সীমাবদ্ধতা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং অনুকূল নীতিমালার অনুপস্থিতির কারণে বাংলাদেশে বড় প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগে মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন টিআরএনবির সভাপতি মাসুদুজ্জামান রবিন। সভাটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি সমীর কুমার দে। এতে দুটি উপস্থাপনা দেন বেসরকারি সাবমেরিন কেব্ল কোম্পানি মেটাকোর সাবকম লিমিটেডের প্রকল্প প্রধান মাহমুদ শাহেদ এবং ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবির কোষাধ্যক্ষ মইন উদ্দিন আহমেদ।
উপস্থাপনায় দেখানো হয়, বিএসসিপিএলসি দুটি সাবমেরিন কেব্ল—সিমিউই-৪ ও সিমিউই-৫-এ মোট ৮১৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছে। ২০০৮ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির রাজস্ব ৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে এবং এই দীর্ঘ সময়ে নিট মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ৩৬২ কোটি টাকার বেশি। কিন্তু একচেটিয়া ব্যবসার সুযোগ থাকায় সাধারণ মানুষ ও ইন্টারনেট গ্রাহক এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বিএসসিপিএলসি যা বলছে
দেশে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের ঘাটতির আশঙ্কাকে শুরু থেকেই ভিত্তিহীন বলে আসছে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্লস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি)। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, বর্তমানে দেশে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই এবং ভবিষ্যতেও সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই, বরং চাহিদার তুলনায় অধিক ব্যান্ডউইথ সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে বিএসসিপিএলসির।
আবার ইন্টারনেটের খুচরা মূল্য কমবেশি হওয়া শুধু আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ব্যান্ডউইথের দামের ওপরই নির্ভর নয় বলছে প্রতিষ্ঠানটি। বিএসসিপিএলসির উপমহাব্যবস্থাপক (মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস) আরিফুল হক প্রথম আলোকে বলেন, গ্রাহকের পরিশোধিত মূল্যের প্রায় ৫৫ শতাংশ বিভিন্ন কর ও সরকারি চার্জ। আর এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে এনটিটিএন, লাস্ট-মাইল, ক্যাশিং, আইটিসি ও পরিচালন ব্যয়। আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের খরচ মোট প্যাকেজ মূল্যের ১০ শতাংশের কম হওয়ায় শুধু এর দাম কমিয়ে গ্রাহক পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য মূল্যহ্রাস সম্ভব নয়।