বাম গণতান্ত্রিক জোটের ডাকা পদযাত্রা ও সমাবেশে এসব কথা বলেন রুহিন হোসেন। ঢাকার টিকাটুলির রাজধানী সুপার মার্কেট থেকে জুরাইন রেলগেট পর্যন্ত এ পদযাত্রা হয়। এই পথে চারটি সমাবেশ হয়।

দুর্নীতি–দুঃশাসন রুখে দাঁড়ানো, ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা, নিত্যপণ্যের দাম কমানো, রেশনিং ন্যায্যমূল্যের দোকান চালুসহ বিভিন্ন দাবিতে এই পদযাত্রা ও সমাবেশ হয়।

সমাবেশে রুহিন হোসেন আরও বলেন, লুটেরা ব্যবসায়ী, টাকা পাচারকারী, ঋণখেলাপি আর হুন্ডি ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার ব্যস্ত। আর নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ। ওষুধের সীমাহীন মূল্যবৃদ্ধিতে জনজীবন নাকাল। এর মধ্যে আরেকবার বিনা ভোটে ক্ষমতায় যেতে নানা ফন্দির চেষ্টা করছে বর্তমান সরকার। তিনি এখনই নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তদারকি সরকারের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা শুরুর আহ্বান জানিয়ে বলেন, কথার মারপ্যাঁচে জনগণকে আর ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সমালোচনা করে রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, কাদের পরামর্শে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করে উৎপাদন না করেও তাদের টাকা দিতে হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। ভুলনীতি, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা দূর করুন—বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হবে না, বরং কমানো যাবে।

সমাবেশে বক্তারা আগামী ২ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ ও পদযাত্রা সফল করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশি-বিদেশি লুটেরা ও আধিপত্যবাদীরা সাধারণ মানুষের চোখে ধুলা দিয়ে দ্বিদলীয় ধারার মধ্যে বন্দী করতে চাইছে। এর থেকে মুক্তি পেতে দুঃশাসনের অবসান ও ব্যবস্থা বদল করতে হবে। এ জন্য বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষকে যাঁর যাঁর নিজস্ব দাবিতে ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ  সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।

বাম গণতান্ত্রিক জোট ঢাকা মহানগরের সমন্বয়ক সাজেদুল হক সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। জোটের কেন্দ্রীয় নেতা মানস নন্দী, হারুনুর রশিদ, শহীদুল ইসলাম, জলি তালুকদার প্রমুখ বক্তব্য দেন।