মানববন্ধনে বলা হয়, ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে বিআরটিএর নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন বাসমালিকেরা। তা ছাড়া যখনই গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী যাত্রীর চাপ বেড়ে যায়, তখনই বাসমালিকেরা আসনসংকট দেখিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে খুলনা ও পিরোজপুরের ভাড়া আদায় করে নেন। বক্তাদের অভিযোগ, এ রুটে নির্দিষ্ট কোনো পরিবহনের বাস না থাকায় বাড়তি সুযোগ নিচ্ছে রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন পরিবহনের মালিকেরা। আগে কয়েকটি পরিবহনের বাস এ রুটে চলাচল করলেও বর্তমানে সব বাস পার্শ্ববর্তী জেলা খুলনা ও পিরোজপুর পর্যন্ত চলাচল করছে এবং তারা গোপালগঞ্জের যাত্রী নিচ্ছে সিট খালি থাকা সাপেক্ষে।

মানববন্ধনে বলা হয়, এ রুটে বিআরটিসির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বাস চলাচল না করায় গণপরিবহনগুলো ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছে। এ রুটে নিয়মিত বিআরটিসির বাস চলাচল করলে একদিকে পরিবহনসংকট কমত, অন্যদিকে বাড়তি ভাড়া থেকে পরিত্রাণ পেতেন এ অঞ্চলের মানুষ।

ঢাকায় একটি অনলাইন গণমাধ্যমে কর্মরত গোপালগঞ্জের বাসিন্দা এস এম খালিদ হোসেন বলেন, পদ্মা সেতুর সুফল অনেকে পেলেও পরিবহন–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবহেলা ও খামখেয়ালিপনায় গোপালগঞ্জবাসী বঞ্চিত হচ্ছে। ঢাকার বাস কাউন্টারগুলোতে গেলে বলা হয়, গোপালগঞ্জের টিকিট নেই। বাধ্য হয়ে গোপালগঞ্জগামী যাত্রীদের খুলনা, পিরোজপুর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাটের টিকিট অতিরিক্ত টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। দ্রুত এ বিষয়ে সমাধান হওয়া দরকার।

গোপালগঞ্জের বাসিন্দাদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে মানববন্ধন থেকে সরকারের কাছে পাঁচটি দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দাবি হচ্ছে, সরকার নির্ধারিত ভাড়ায় রুটের সব বাস চলাচল করতে হবে। কোনোক্রমে বেশি টাকা নেওয়া যাবে না। ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটের বাস জেলার বাইরে চলাচল করতে পারবে না এবং রুটের শেষ স্টপেজ হবে টুঙ্গিপাড়া পৌর বাস টার্মিনাল (পাটগাতী বাজার। গোপালগঞ্জ দিয়ে চলাচলকারী অন্যান্য রুটের বাসে গোপালগঞ্জের নির্ধারিত ভাড়ায় নির্দিষ্টসংখ্যক সিট বরাদ্দ রাখতে হবে ইত্যাদি।

‘আমরা গোপালগঞ্জবাসী’ নামের সংগঠনের সমন্বয়ক এস এম বাবুল হোসেনের সভাপতিত্বে এবং বৈশাখী টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মশিউর রহমান পার্থের সঞ্চালনায় মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সময়ের আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক সমীরণ রায়, কে এম মেহেদী হাসান কাজল, হলি টাইমসের সম্পাদক ও প্রকাশক শ্যামল কান্তি নাগ প্রমুখ।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন