বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা ও কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত: আখতারুজ্জামানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর
সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর আখতারুজ্জামানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি–সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় তিনি কারাগারে আছেন।
আসামিপক্ষের জামিন আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে আজ সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-৫–এর বিচারক মো. সাদেকীন হাবীব বাপ্পী এ আদেশ দেন।
শুনানিতে আখতারুজ্জামানের পক্ষের আইনজীবী শিশির মনির, আবদুর রাজ্জাকসহ কয়েকজন জামিন চান। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ওমর ফারুক ফারুকী এ জামিনের বিরোধিতা করেন।
শুনানিতে আসামিপক্ষে শিশির মনির বলেন, যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মামলা, সেখানে কোনো ক্রিমিনাল কেস নেই। শুধু কথা-কাটাকাটি ছিল। এর বাইরে আর কিছুই ঘটেনি। এই মামলার ধারা জামিনের যোগ্য ধারা বলেন তিনি।
রাষ্ট্রপক্ষে ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ‘কী হয়েছে না হয়েছে, আমরা তা দেখেছি মিডিয়াতে। লুকোচুরির কিছু নেই। তিনি বলেন, ‘সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার আইনে কী আছে, সেটা মানেন। সেটা কি অন্যায় নয়?’
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলির–সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং দায়িত্বরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে ১ অক্টোবর রাতে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা হয়। ২ অক্টোবর ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৩ অক্টোবর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। ৪ অক্টোবর কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা প্রটোকল সহকারীরা বিমানবন্দরের সংরক্ষিত কেপিআই এলাকায় মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ শুরু করেন। সেখানে দায়িত্বরত নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন তাঁদের ভিডিও ধারণ করতে নিষেধ করেন। এতে আখতারুজ্জামান ক্ষিপ্ত হয়ে ওই কর্মকর্তাকে গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
মামলায় সাধারণ যাত্রীদের সংগ্রহ করা পবিত্র জমজমের পানির বোতলের ক্ষতিসাধন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণের অভিযোগও আনা হয়েছে।
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে। কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে টানা দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। একাদশ জাতীয় সংসদের প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনে এ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পুলিশের সাবেক আইজি নৌকার নূর মোহাম্মদের কাছে হেরে যান আখতারুজ্জামান। এরপর ২০২৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় নির্বাচন করে পরাজিত হন তিনি।
আখতারুজ্জামান একসময় কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি আখতারুজ্জামানকে পঞ্চমবারের মতো বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর বিভিন্ন সময় সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে টক শো বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা বলে আলোচনায় ছিলেন তিনি। এমন অবস্থার মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত বছর ১৩ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছিলেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান।