৫ আগস্টের পর জেল থেকে পালানো গোপালগঞ্জের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার
গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবদুল্লাহ শিকদারকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। আবদুল্লাহ শিকদার গোপালগঞ্জের একটি হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর দারুস সালাম থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ শনিবার রাজধানীর মিরপুরে পাইকপাড়া র্যাব-৪–এর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
র্যাব জানায়, আবদুল্লাহ শিকদার ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যান। এর আগের দিন ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৪–এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এন রায় নিয়তি বলেন, আবদুল্লাহ শিকদার ২০২৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর থেকে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী ছিলেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট কারাগারে সৃষ্ট সহিংসতা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে আবদুল্লাহ শিকদার অন্য বন্দীদের সঙ্গে পালিয়ে যান। ওই ঘটনায় কারাগার কর্তৃপক্ষ গাজীপুরের কোনাবাড়ী থানায় মামলা করে।
র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, কারাগার থেকে পালানোর পর আবদুল্লাহ শিকদার গ্রেপ্তার এড়াতে বিভিন্ন ছদ্মবেশে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপনে ছিলেন। গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিগত নজরদারির মাধ্যমে অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর রাজধানীর দারুস সালাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
২০২১ সালের ৭ অক্টোবর গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া এলাকায় সুদের পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে আবদুল্লাহ শিকদারের নেতৃত্বে প্রতিবেশী লুৎফর রহমানকে হাতুড়ি আর কুড়ালের আঘাতে হত্যা করা হয় বলে জানান কে এন রায় নিয়তি। ওই ঘটনায় টুঙ্গিপাড়া থানায় হত্যা মামলা হয়। পরে আদালত আবদুল্লাহ শিকদারসহ তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তাঁদের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে পাঠানো হয়।
র্যাব জানায়, পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আবদুল্লাহ শিকদারকে কোনাবাড়ি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।