ঢাকায় ভুটানের রাজার যাত্রাবিরতি, বিমানবন্দরে সৌজন্য সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতি

বিমানবন্দরে ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগে ওয়াংচুকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরছবি: বঙ্গভবনের সৌজন্যে

ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগে ওয়াংচুককে আজ বুধবার ভোরে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাগত জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ভুটানের রাজাকে বহনকারী একটি বিশেষ উড়োজাহাজ সিঙ্গাপুর থেকে ভুটান যাওয়ার পথে আজ ভোরে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতি করে। বিমানবন্দরে অবস্থানকালে ভিভিআইপি লাউঞ্জে ভুটানের রাজার সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তাঁরা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা করেন।

ভুটানের রাজা ও রাজপরিবারের সদস্যদের সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ জানান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল। জবাবে ভুটানের রাজা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে তাঁদের সুবিধাজনক সময়ে ভুটান সফরের আমন্ত্রণ জানান।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুলকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান ভুটানের রাজা।

রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের জনগণ, সরকারের পক্ষ থেকে ভুটানের রাজা ও রাজপরিবারের সদস্যদের প্রতি উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান।

আলাপকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে গভীর, ঐতিহাসিক সম্পর্ক বিদ্যমান।

ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগে ওয়াংচুককে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
ছবি: বঙ্গভবনের সৌজন্যে

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ভুটান সব সময় আমাদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে আছে। কারণ, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া বিশ্বের প্রথম দেশ ভুটান।’

এ সময় রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের প্রতি ভুটানের বর্তমান রাজার বাবা রাজা জিগমে সিংগে ওয়াংচুকের বিশেষ মমত্ববোধ ও গভীর শ্রদ্ধাবোধের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

দুই দেশের অভিন্ন উন্নয়নসহ সমৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরে ভুটানের রাজা শিক্ষা, বাণিজ্য, বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

এ সময় ভুটানের রাজা তাঁর ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’ প্রকল্প সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। এতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি প্রকল্পটির প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, পারস্পরিক কল্যাণ, সমৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে এ অঞ্চলের রূপান্তরমূলক উদ্যোগগুলো এগিয়ে নিতে ভুটানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে বাংলাদেশ প্রস্তুত।

সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সিঙ্গাপুর থেকে আসা ভুটানের রাজাকে বহনকারী বিশেষ উড়োজাহাজটি সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে ভুটানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করে।