থানা ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আকাশের বাবা রাশেদুল ব্যাটারিচালিত ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। আকাশও মাঝেমধ্যে ভ্যানে যাত্রী আনা-নেওয়া করত। গত শুক্রবার আমিনুর মল্লিক নামের এক যাত্রী আকাশের ভ্যানে ওঠেন। আমিনুর তাকে পরদিন ভাড়া দেবেন বলে জানান। পরদিন শনিবার আকাশের বেশ জ্বর ছিল। এরপরও বালিয়াকান্দি বাজারে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে ভ্যান নিয়ে বের হয় সে। আমিনুরের কাছ থেকে ভাড়ার টাকা নিয়ে বাড়িতে ফেরার কথা ছিল তার। কিন্তু রাত হয়ে গেলেও সে ফেরেনি। আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হয়। কিন্তু কোথায়ও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এর পরদিন রোববার আকাশের বাবা রাশেদুল খান বালিয়াকান্দি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

রাশেদুল খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার ছেলে মাঝেমধ্যে ভ্যান চালাত। আমি তাকে নিষেধ করতাম। ওই দিন আকাশের শরীরে জ্বর ছিল। আমি মাঠে পাট কাটতে যাই। একজনের কাছে (আমিনুর মল্লিক) সে টাকা পেত। টাকা নিয়েই বাড়ি চলে আসবে বলে বের হয়েছিল। আমি দুপুরে বাড়িতে এসে জানতে পারি, আকাশ বাড়িতে আসে নাই। এরপর এলাকার ভ্যানচালকদের সঙ্গে কথা বলি। তারা কেউ জানে না বলে জানায়। আমার এক আত্মীয় জানায়, আকাশকে আমিনুর নিয়ে গেছে। এরপর আমিনুরের সঙ্গে কথা বলি। সে লুডু খেলছিল। আমিনুর বলে, “আকাশের কাছে ভাড়ার পাওনা টাকা দিয়ে দিয়েছি। ভাঙতি ছিল না বলে দেরি হয়েছে। আকাশ টাকা নিয়ে চলে গেছে।” কিন্তু এরপর সারা রাত আকাশকে বিভিন্ন স্থানে খুঁজেছি। কোথায়ও পাইনি।’

নিহত আকাশের ফুফু শিরিন আক্তার বলেন, ‘ঈদের তিন দিন আগে ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি তৈরি করা হয়। আমার ভাই গরিব মানুষ। এনজিও থেকে ৯০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছে। ঋণের টাকা থেকে কিছু দায়দেনা পরিশোধ করেছে। আর ব্যাটারিচালিত ভ্যান তৈরি করতে ব্যয় হয় ৫২ হাজার টাকা। এখনো কোনো কিস্তি দেওয়া হয়নি। এর মধ্যেই ভ্যানটি ছিনতাই হলো। তার চেয়ে বড় কথা, আমার ভাতিজার জীবনটাই চলে গেল।’

বালিয়াকান্দি থানার উপপরিদর্শক আসাদুজ্জামান রিপন আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় ওই কিশোরের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। লাশের পাশে একটি গামছা পাওয়া গেছে। ভ্যানটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আমিনুর মল্লিক নামের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন