সমান সুযোগ না পেলে ইউরোপীয় ও ফ্রান্সের প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে আসবে না: ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে ঢাকায় ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শার্লেট। আজ সোমবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েছবি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সৌজন্যে

বাংলাদেশে ইউরোপীয় ও ফরাসি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে সমান সুযোগ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শার্লেট। তিনি বলেছেন, সমান সুযোগ না পেলে ওই সব প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিনিয়োগ বা ব্যবসা নিয়ে আসবে না।

আজ সোমবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত এ কথা বলেন।

জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শার্লেট বলেন, ‘আমাদের ইউরোপীয় এবং ফরাসি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সমান সুযোগ দরকার। যদি না হয়, তাহলে তারা আসবে না। তাদের বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিই না, তারা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এটা গুরুত্বপূর্ণ যে আপনি যদি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আকৃষ্ট করতে চান, তাহলে তারা আসবে এবং তাদের সঙ্গে যদি ভালো আচরণ করা হয়। একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আমাদের জন্য একেবারেই গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমরা এটা আলোচনা করেছি।’

বাংলাদেশ ও ফ্রান্স দীর্ঘদিনের অংশীদার জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ফ্রান্স বাংলাদেশকে শুরুর দিকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশ। তাই আমরা বাংলাদেশের একজন বিশ্বস্ত সমর্থক। আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে বহুপক্ষীয় বিকাশের আকাঙ্ক্ষায় একত্রে কাজ করি, বিশেষ করে জাতিসংঘের ক্ষেত্রে, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি শান্তিপূর্ণ দেশ। বাংলাদেশ এমন একটি দেশ, যা বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সহযোগিতা গড়ে তুলতে চায়। আমরা একই পথে আছি। আমরা সহযোগিতার পক্ষে, সংঘর্ষের পক্ষে নয়। বাংলাদেশের সঙ্গে সামনের মাস ও বছরগুলোতে আরও সহযোগিতা বাড়াতে চাই। তাই আমরা ফ্রান্স এবং বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক পুনরায় চালু করতে চাই। আমাদের আগের সবকিছুর পরে একটি নতুন শুরু দরকার।’

বৈঠকে আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সময় এসেছে সহযোগিতার বিভিন্ন পথগুলো দেখা এবং আলোচনা করার। যত দূর সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে, আমরা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছি। আমরা অর্থনীতি, বাণিজ্য, ব্যবসার ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছি। কারণ, আমরা চাই আরও ফরাসি প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুক।’

সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শার্লেট বলেন, ‘আমরা চাই বাংলাদেশ থেকে আরও শিল্পী, আরও শিক্ষার্থী ফ্রান্সে আসুক এবং আমরা চাই ফ্রান্স থেকে আরও শিক্ষার্থী ও শিল্পীরা বাংলাদেশে আসুক। সুতরাং, এটি দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।’

নারীর ক্ষমতায়ন নিয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন যে ফরাসি কূটনীতির অগ্রাধিকারের মধ্যে ফ্রান্সের নারীবাদী পররাষ্ট্রনীতিও রয়েছে। তাই আমরা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়ে আরও কিছু করতে চাই।’

এয়ারবাস থেকে উড়োজাহাজ কেনার প্রসঙ্গে জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শার্লেট বলেন, ‘আজ আমি আমার রাজধানীর কিছু বার্তা পৌঁছে দিয়েছি। আমাদের জন্য, এয়ারবাস একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অবশ্যই এয়ারবাস খুব ভালো মানের উড়োজাহাজ তৈরি করছে। এখানে বৈচিত্র্যময় করা গুরুত্বপূর্ণ। তাই এয়ারবাস এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যাদের গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত।’

তবে বিষয়টি সরকারের সঙ্গে এয়ারবাসের আলোচনার ওপর ছেড়ে দেবেন জানিয়ে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমি এখানে এই প্রথম বৈঠকে আরও দীর্ঘমেয়াদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি। আশা করছি, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, সরকার এবং বাংলাদেশ বিমান এয়ারবাসের বিষয়টি বিবেচনা করবে। তবে আমাদের আলোচনায় এটি মূল বিষয় ছিল না।’

এয়ারবাস না কিনলে তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে কি না, সে প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা এখনো সরকারের সঙ্গে এয়ারবাস নিয়ে আলোচনা করছি। এয়ারবাস এখনো সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছে। আমরা দেখব পরে কী হয়। কী হবে তার ওপর নির্ভর করে। তবু আমরা আলোচনা করছি এবং আমরা আশা করি যে এয়ারবাসকে গুরুত্বসহকারে নেওয়া হবে। কারণ, এটি একটি ভালো প্রতিষ্ঠান।’

বিকেলে বৈঠকের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামকে ফ্রান্স থেকে এয়ারবাস কেনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সকল দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বন্ধুদের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আলোচনা হয়। আমাদের সঙ্গে সকল দেশেরই সম্পর্ক থাকবে বাংলাদেশ প্রথম নীতির ভিত্তিতে।’