ইরান যুদ্ধের কারণে পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা ‘বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজে গত মার্চে ঈদুল ফিতর উদ্যাপন করেছিলেন বাংলাদেশি নাবিকেরা। তখন তাঁদের আশা ছিল, হয়তো অল্প কিছুদিনের মধ্যেই দেশে ফিরতে পারবেন। কিন্তু ইরানের অনুমতি না পাওয়ায় এবার ঈদুল আজহার নামাজও জাহাজেই আদায় করতে হয়েছে তাঁদের।
আজ বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় (বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা) বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’র নেভিগেশন ব্রিজে ঈদের নামাজ আদায় করেন জাহাজটিতে থাকা ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর প্রায় তিন মাস ধরে পারস্য উপসাগরে আটকে আছে জাহাজটি। দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অনুমতি ছাড়া জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। গত ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও এখনো বাংলাদেশি জাহাজটি চলাচলের অনুমতি পায়নি। যদিও এর মধ্যে বিভিন্ন দেশের অনেক জাহাজ ইরানের অনুমতি নিয়ে চলাচল শুরু করেছে।
‘বাংলার জয়যাত্রা’র মাস্টার ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম খান প্রথম আলোকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকায় নাবিকদের মানসিক চাপ বেড়েছে। তাই ঈদের দিনটিকে যতটা সম্ভব আনন্দঘন করে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ঈদের নামাজ শেষে সবাই একসঙ্গে নাশতা করেছি। দুপুরের খাবারের মেন্যুতে ছিল পোলাও, উটের মাংস ও গরুর মাংস।’
২৭ ফেব্রুয়ারি কাতার থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায় বাংলার জয়যাত্রা। পরদিনই ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হলে জাহাজটি পারস্য উপসাগর এলাকায় আটকে পড়ে।
যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই জাহাজটিকে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালায় বাংলাদেশ সরকার। জাহাজটিকে নিয়ে কয়েক দফা হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টাও করেন নাবিকেরা। তবে ইরানের অনুমতি না মেলায় এখনো পারস্য উপসাগরেই অবস্থান করছে জাহাজটি।
কবে নাগাদ জাহাজটি হরমুজ প্রণালি পার হতে পারবে, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছেন ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘কবে নাগাদ হরমুজ পার হতে পারব, এখনো জানি না।’