শেরপুরে সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহতের প্রতিবাদে ঢাবিতে ডাকসুর নেতৃত্বে বিক্ষোভ
শেরপুরে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে এক জামায়াত নেতা নিহতের ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতৃত্বে বুধবার রাতে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা উপাচার্য চত্বরে সমবেত হন। পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে টিএসসিতে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়।
মিছিল থেকে আন্দোলনকারীরা ‘অ্যাকশন অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘মানুষ খুনের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘বিচার বিচার বিচার চাই, মানুষ হত্যার বিচার চাই’, ‘প্ল্যান প্ল্যান কোন প্ল্যান, মানুষ খুনের মাস্টারপ্ল্যান’, ‘তারেক জিয়ার অনেক গুণ, শেরপুরে অনেক খুন’, ‘রেজাউল ভাই খুন কেন, খুনি তারেক জবাব দে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
বিক্ষোভ-পরবর্তী সমাবেশে ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপি আর নেই। বিএনপি এখন চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও সন্ত্রাসীদের আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়েছে।’
জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে মজলুমদের নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যাশা ছিল, তা বিএনপি ভেঙে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন আবু সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, গত দেড় বছরে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও রাহাজানির সঙ্গে সবচেয়ে বেশি জড়িত দল হচ্ছে বিএনপি। নিজেদের দলের ভেতরেই দুই শতাধিক মানুষ হত্যার ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন রাখেন, যাদের হাতে নিজেদের দলের লোক নিরাপদ নয়, তাদের হাতে দেশ কীভাবে নিরাপদ হবে?
বিএনপির চেয়ারম্যানকে ইঙ্গিত করে সাদিক কায়েম আরও অভিযোগ করেন, তারেক রহমান দেশে ফিরে বিএনপিকে শৃঙ্খলায় আনবেন—এমন আশা থাকলেও বাস্তবে দেখা গেছে, সারা দেশে নারী নির্যাতন, হামলা ও চাঁদাবাজি বেড়েছে। বিএনপির তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সর্বস্তরের নেতারা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত।
সমাবেশে ডাকসুর সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মো. মহিউদ্দিন খান বলেন, ‘আমরা জুলাই অভ্যুত্থানের পরে একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বিএনপি এবং তাদের অঙ্গসংগঠনগুলো চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস এবং খুনের মাধ্যমে সেই স্বপ্ন আমাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে।’
এ সময় ডাকসুর অন্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।