প্রার্থিতা ফিরে পেতে কুমিল্লা–৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর করা লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। ফলে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে পারছেন না।
হাইকোর্টে বিফল হয়ে প্রার্থিতা ফিরে পেতে সর্বোচ্চ আদালতে লিভ টু আপিল করেছিলেন মঞ্জুরুল আহসান। শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগ আজ রোববার লিভ টু আপিল খারিজ করে খারিজ করে আদেশ দেন। আসনটিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ।
এর আগে মঞ্জুরুল আহসানের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বৈধ ঘোষণা করেছিলেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা। রিটার্নিং কর্মকর্তার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেছিলেন এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি আপিলে অভিযোগ করেছিলেন, বিএনপির প্রার্থী ঋণখেলাপি হওয়ার তথ্য গোপন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে শুনানি শেষে গত ১৭ জানুয়ারি হাসনাত আবদুল্লাহর আপিল মঞ্জুর করে ইসি। এতে মঞ্জুরুল আহসানের মনোনয়নপত্র অবৈধ হয়।
ইসির এই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে মঞ্জুরুল আহসান হাইকোর্টে রিট করেন। শুনানি নিয়ে গত ২১ জানুয়ারি হাইকোর্ট রিটটি সরাসরি খারিজ করে আদেশ দেন।
হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে মঞ্জুরুল আহসান আপিল বিভাগে আবেদন করেন। গত ২৬ জানুয়ারি আপিল বিভাগ শুনানি ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতবি করেন। এর মধ্যে হাইকোর্টের আদেশের প্রত্যায়িত অনুলিপি পেয়ে তিনি নিয়মিত লিভ টু আপিল করেন। ৩০ জানুয়ারি লিভ টু আপিলের ওপর শুনানি শেষে আপিল বিভাগ ১ ফেব্রুয়ারি (আজ রোববার) আদেশের জন্য দিন রাখেন।
আদালতে মঞ্জুরুল আহসানের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, মো. রুহুল কুদ্দুস ও আইনজীবী মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ মামুন।
হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সালাহ উদ্দিন দোলন ও মোহাম্মদ হোসেন এবং আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুসা।
পরে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সালাহ উদ্দিন দোলন প্রথম আলোকে বলেন, ‘মঞ্জুরুল আহসানের লিভ টু আপিল খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। ফলে তিনি নির্বাচন করতে পারবেন না। আদালতের মাধ্যমে স্থগিতাদেশ নিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার গত আড়াই দশকের চর্চার কবর রচনা করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক দল কোনো ঋণখেলাপিকে মনোনয়ন দিতে পারবে না। সেই সঙ্গে দ্বৈত নাগরিকদেরও না।’