অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংক্রান্ত মামলা শুনতে হাইকোর্টে সুনির্দিষ্ট বেঞ্চ গঠন

হাইকোর্ট ভবনছবি: প্রথম আলো

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার মতো নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও বিবিধ বিষয়াদি হাইকোর্টে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনতে সুনির্দিষ্ট একটি বেঞ্চকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ জন্য হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ আজ বুধবার গঠন করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। বেঞ্চ গঠন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

বেঞ্চ গঠন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত অনুসারে, বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চটি ১৪ জুন (রোববার) থেকে কার্যক্রম শুরু করবে।

গঠিত দ্বৈত বেঞ্চকে শুনানির জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুধু নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংক্রান্ত মৃত্যুদণ্ডাদেশ কনফারমেশনের রেফারেন্স এবং একই রায় হতে উদ্ভূত সব ফৌজদারি আপিল ও জেল আপিল এবং ওই রায় হতে উদ্ভূত ফৌজদারি আপিল ও জেল আপিল মঞ্জুরির আবেদনপত্র; ওই রায় হতে উদ্ভূত ফৌজদারি বিবিধ ও ফৌজদারি রিভিশন যদি থাকে এবং উল্লেখিত বিষয়াদি সংক্রান্ত রুল, আবেদনপত্র গ্রহণ ও শুনানির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এর আগে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় ৭ জুন রায় দেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

নিম্ন আদালত কোনো মামলায় রায় দিলেও আপিল শুনানিতে বিলম্ব ঘটার কারণে সে রায় কার্যকর মানুষ দেখতে পান না, বিলম্ব ঘটে—এ বিষয়টি সেদিন প্রধান বিচারপতির দৃষ্টিতে আনেন বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রায়ের পর ৭ জুন অ্যাটর্নি জেনারেল এক ব্রিফিংয়ে জানান, প্রধান বিচারপতি এই বিচারের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন যে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীন এই জাতীয় মামলা, অর্থাৎ পল্লবীর শিশুসহ এই সমস্ত মামলাগুলো শুনানির জন্য হাইকোর্টে একটি সুনির্দিষ্ট বেঞ্চ উনি গঠন করবেন, যেটা আগামী রোববার থেকে কার্যকর হবে।

এরপর আজ বেঞ্চ গঠন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হলো।