নির্বাচন বানচালের চেষ্টা মোকাবিলার অনুরোধ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের মাধ্যমে দেশে সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে দেশি-বিদেশি মহলের অপতৎপরতা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষক, শিল্পী, সাহিত্যিকসহ ১৫৪ বিশিষ্ট নাগরিক। এ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তাঁরা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা মোকাবিলা করে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে সবাইকে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান।

সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিশিষ্টজনেরা এ অনুরোধ জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ ও জনগণের ইস্পাতকঠিন ঐক্যের ফলে ১৯৭১ সালে বিশ্বমানচিত্রে আমরা স্বাধীন জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পেরেছিলাম। পরিতাপের বিষয়, স্বাধীনতার ৫২ বছর পরও আমাদের স্বাধীনতার পরাজিত শক্তির সঙ্গে লড়তে হচ্ছে। এ অপশক্তির হাতে আমরা রাষ্ট্রের স্থপতিকে হারিয়েছি। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া সামরিক বাহিনীর অগণিত বীর সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষদের প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী হামলার মাধ্যমে বা গোপন কিলিং মিশনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে ধারাবাহিকভাবে। লক্ষ প্রাণের আত্মত্যাগ আর মা-বোনদের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত এ দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্য নিয়ে এখনো ছিনিমিনি খেলছে স্বাধীনতার পরাজিত শত্রুরা।’  

বিশিষ্ট নাগরিকেরা বলেন, ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময় যেভাবে এরা অগ্নিসন্ত্রাস আর ধ্বংসযজ্ঞে লিপ্ত ছিল, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে একইভাবে এরা হরতাল–অবরোধের নামে সাধারণ মানুষের জানমাল, গণপরিবহন, ট্রেন ইত্যাদির ওপর চোরাগোপ্তা হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ অব্যাহত রেখেছে। রেললাইন উপড়ে, আগুন লাগিয়ে, স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত করে এরা দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করতে চায়।

বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক বজলুল হক খন্দকার, অধ্যাপক হারুন অর রশিদ, অধ্যাপক অনুপম সেন, অধ্যাপক হাশেম খান, অধ্যাপক রফিকুন নবী, অধ্যাপক সনৎ কুমার সাহা, কামাল চৌধুরী, সেলিনা হোসেন, অধ্যাপক মাহফুজা খানম, অধ্যাপক আবদুল মান্নান, অধ্যাপক নিসার হোসেন, আতাউর রহমান, মুহম্মদ নূরুল হুদা, অসীম সাহা, শাহাবুদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক সৈয়দ আবুল বার্‌ক্‌ আলভী, ফরিদা জামান, পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, অধ্যাপক জামাল উদ্দিন আহমেদ, নুজহাত চৌধুরী, শিশির ভট্টাচার্য, মনজুরুল আহসান বুলবুল, তারিক সুজাত, অধ্যাপক নিজামুল হক ভূঁইয়া, অধ্যাপক জিনাত হুদা প্রমুখ।