মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সাধারণত একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এবার শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভাষাশহীদদের জন্য দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নিয়েছেন।
এ বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা–সমালোচনা চলছে। যদিও শহীদ মিনারে সরকারপ্রধানদের মোনাজাত করা এবারই প্রথম নয়। প্রথম আলো ফ্যাক্ট চেকে দেখা যায়, স্বাধীনতার পরেও শহীদ মিনারে মোনাজাত হয়েছে। ১৯৭২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন দৈনিক বাংলার প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত একটি ছবির ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, ‘শহীদ মিনারে মোনাজাত করছেন বঙ্গবন্ধু।’
এবার শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে (শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে) প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
গতকাল সরকারি বার্তা সংস্থা বাসসের খবরে বলা হয়, ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিলেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিনি একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর সেখানেই দাঁড়িয়ে ভাষাশহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। দোয়া পরিচালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের জ্যেষ্ঠ ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা নাজির মাহমুদ।
এ বিষয়ে বিএনপি মিডিয়া সেল ফেসবুক পেজে উল্লেখ করেছে, ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের এক অভূতপূর্ব দৃশ্য—যা অতীতে কখনোই দেখা যায়নি।
১৯৪৮ সাল থেকে শুরু হওয়া ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। সেদিন ঢাকায় শাসকগোষ্ঠীর জারি করা ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল বের করেন ভাষার জন্য লড়াইরত এ দেশের ছাত্র-জনতা। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর পুলিশ মিছিলে গুলি চালালে সালাম, বরকত, রফিক, সফিউর, জব্বারসহ নাম না-জানা অনেক বীর সন্তানের রক্তে রঞ্জিত হয় রাজপথ। এরপর ১৯৫৬ সালে এ দেশের মানুষের প্রাণের ভাষা, মায়ের ভাষা বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এ জন্য জাতি প্রতিবছর কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে সেসব ভাষাশহীদকে।