ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালুর নির্দেশ কেন নয়: হাইকোর্ট
পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিমানবন্দরটি পুনরায় চালু করতে নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়েও রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে।
এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ আজ রোববার এ রুল দেন।
গত বছরের ১২ জুন ঠাকুরগাঁওয়ে পরিত্যক্ত বিমানবন্দর চালু ও মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ নিয়ে প্রথম আলোতে ‘ঠাকুরগাঁওয়ে বন্ধ বিমানবন্দর চালু ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদন যুক্ত করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ঠাকুরগাঁওয়ের বাসিন্দা মো. কামরুজ্জামান গত ২৫ মে রিটটি করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে আবেদনকারী আইনজীবী মো. কামরুজ্জামান নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শফিকুর রহমান ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইকরামুল কবির।
ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯৪০ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে বিমানবন্দর নির্মাণ করা হয় বলে জানান আইনজীবী মো. কামরুজ্জামান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও-ঢাকা রুটে নিয়মিত উড়োজাহাজ চলাচল করত। তবে ১৯৭৯ সালে বিমানবন্দরটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ৪৪ বছরের বেশি সময় ধরে বিমানবন্দরটি পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। ঢাকা থেকে দূরত্বের কারণে ঠাকুরগাঁওয়ে বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হচ্ছেন না।
কামরুজ্জামান আরও বলেন, বিমানবন্দরটি চালু হলে বাংলাদেশের সঙ্গে ভুটান ও নেপালের মধ্যে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক বিমানসেবা চালুর সুযোগ সৃষ্টি হবে। এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি অর্থনৈতিক হাব ও পর্যটনশিল্প গড়ে উঠতে পারে। যেমনটি কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে হয়েছে। এসব দিক বিবেচনায় রিটটি করা হলে শুনানি নিয়ে আদালত ওই রুল দিয়েছেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনসচিব, অর্থসচিব, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব, প্রতিরক্ষাসচিব, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিভিল এভিয়েশন) চেয়ারম্যান ও ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসকসহ বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে বলে জানান আইনজীবী মো. কামরুজ্জামান।