রোহিঙ্গাদের জন্য এ বছর চাওয়া হয়েছে ৭১০ মিলিয়ন ডলার
রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা তহবিল যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায় (জেআরপি) ২০২৬ সালের জন্য ৭১০ মিলিয়ন ডলার চাওয়া হয়েছে। খাদ্যনিরাপত্তা, সুরক্ষা, শিক্ষাসহ আটটি খাতে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী, টেকনাফের স্থানীয় বাসিন্দা এবং ভাষানচরে স্থানান্তরিত রোহিঙ্গা মিলিয়ে মোট ১৫ লাখ মানুষের সহায়তায় এই তহবিল চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ১২ লাখ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠী ৩ লাখ ৭ হাজার।
আজ বুধবার সকালে রাজধানীর গুলশানে জাতিসংঘের দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক সভায় জেআরপি ২০২৬–এর তহবিলের ঘোষণা দেওয়া হয়। জেআরপির তহবিল ঘোষণার আলোচনায় জানানো হয়েছে, চলতি বছরের ৭১০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ৬৭৪ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার রোহিঙ্গাদের জন্য এবং অবশিষ্ট ৩৬ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দের কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব এম ফরহাদুল ইসলাম, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক উপহাইকমিশনার কেলি ক্লিমেন্টস, ইউএনউইমেনের উপনির্বাহী পরিচালক নিয়ারাদজায়ি গুমবুন্দজভান্দা, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সহকারী নির্বাহী পরিচালক রানিয়া দাগাশ কামারা, বাংলাদেশে জাতিসংঘের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক সমন্বয়কারী কেরোল ফ্লোরে। আলোচনায় সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন।
জেআরপি ২০২৬ উপস্থাপনা করেন কক্সবাজারে শরণার্থী প্ল্যাটফর্মের প্রধান ডেভিড বাগডেন। তিনি জানান, চলতি বছরের জেআরপিতে সর্বোচ্চ ২৫৩ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ ধরা হয়েছে খাদ্যনিরাপত্তায়। আশ্রায়ণের জন্য ১৩২ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার, নিরাপত্তার জন্য ৭৮ মিলিয়ন ডলার, পানি, স্যানিটেশন ও পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতার জন্য মোট ৬৪ মিলিয়ন ডলার। শিক্ষায় ধরা হয়েছে ৫৪ মিলিয়ন ডলার ও স্বাস্থ্যে ৫৩ মিলিয়ন ডলার। দক্ষতা উন্নয়নের জন্য খরচ হবে ৪০ মিলিয়ন ডলারের মতো। পুষ্টির জন্য ৩১ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলারের মতো খরচ ধরা হয়েছে। তিনি জানান, জেআরপির মোট তহবিলের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বাকি অর্থ দেওয়ার কথা ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ অন্যান্য দাতা সংস্থা।
বাংলাদেশে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন জানান, চলতি বছরের মোট চাহিদার মধ্যে গত এপ্রিল পর্যন্ত ৬৩ শতাংশ তহবিল জোগাড় করা হয়েছে।