ক্ষমতাচ্যুত আ.লীগ আমলের ‘অপ্রয়োজনীয়’ প্রকল্প বাদ দিতে বলল সংসদীয় কমিটি

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে ব্রিফিংছবি: প্রথম আলো

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ‘অপ্রয়োজনীয় ও দুর্নীতির উদ্দেশ্যে’ নেওয়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পগুলো বাদ দিতে বলেছে সংসদীয় কমিটি। একই সঙ্গে প্রকল্পের কাজের গুণগত মান ঠিক রাখতে ঠিকাদারদের কাছ থেকে তিন বছরের ‘ওয়ারেন্টি’ হিসেবে জামানত রাখার সুপারিশ করেছে কমিটি।

আজ রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নেওয়া বিভিন্ন প্রকল্প, ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত সূত্র জানায়, বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন সংস্থার চলমান প্রকল্পগুলোর তথ্য উপস্থাপন করা হয়। সদস্যদের কেউ কেউ বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে অনেক প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল, যেগুলো আসলে অপ্রয়োজনীয়। দুর্নীতি করার জন্য প্রকল্পগুলো নেওয়া হয়েছিল। এ ধরনের প্রকল্পগুলো মন্ত্রণালয়কে চিহ্নিত করতে হবে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কিছু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) কাজ করছে।

বিগত ‘ফ্যাসিস্ট’ আমলে অপ্রয়োজনীয় ও দুর্নীতির জন্য অনেক প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল, সেগুলো বাদ দিয়ে জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় ও বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্পগুলো দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তাঁরা গুরুত্ব আরোপ করেছেন। যেকোনো উন্নয়নমূলক কাজ সমাপ্তির পর তিন বছর সেই বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে মেরামতের দায়িত্ব নিতে হবে।
—এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব, সভাপতি, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব সাংবাদিকদের বলেন, বিগত ‘ফ্যাসিস্ট’ আমলে অপ্রয়োজনীয় ও দুর্নীতির জন্য অনেক প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল, সেগুলো বাদ দিয়ে জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় ও বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্পগুলো দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তাঁরা গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তাঁরা বলেছেন, রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে যা–ই নির্মাণ করা হোক, এগুলোর গুণগত মান যেন ঠিক থাকে। প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন, যেকোনো উন্নয়নমূলক কাজ সমাপ্তির পর তিন বছর সেই বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে মেরামতের দায়িত্ব নিতে হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে গুণগত মান ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না।

আরও পড়ুন

নির্বাচনের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত নয়

এক প্রশ্নের জবাবে সেলিম রেজা হাবিব বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ। এ নির্বাচনের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি দরকার। কমিটি মনে করে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো মানসিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। এ কারণে তাঁরা কিছুটা সময় নিয়ে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে বলেছেন। তবে তাঁরা যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন দিতে বলেছেন। তাঁরা আশা করছেন, আগামী বছরের প্রথম দিকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে কমিটির সভাপতি বলেন, সারা দেশে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি চলছে। অন্যান্য বছরের মতো এ বছর মশার উপদ্রব নেই। কিন্তু ডেঙ্গু আক্রান্তের মাত্রা অনেক বেশি।

বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এডিস মশা নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজ নিজ এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা অভিযান তদারকি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।

আরও পড়ুন

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, গ্রামীণ সড়ক ও রাস্তাঘাট নির্মাণকাজের গুণগত মান, স্থায়িত্ব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঠিকাদারদের কাছ থেকে তিন বছরের ওয়ারেন্টি হিসেবে জামানত গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে নির্মাণকাজের তদারকি জোরদার করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে আর্সেনিকযুক্ত এলাকা চিহ্নিত করে নিরাপদ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রকল্প গ্রহণ এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ কে এম সেলিম রেজা হাবিবের সভাপতিত্বে কমিটির সদস্যদের মধ্যে বৈঠকে অংশ নেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, জসীম উদ্দীন আহমেদ, শেখ ফরিদ আহমেদ, সেলিনা সুলতানা, এ টি এম আজহারুল ইসলাম ও মো. রফিকুল ইসলাম খান।

আরও পড়ুন