সিলেটে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে হলফনামার তথ্য গোপনের অভিযোগ বিএনপির
সিলেট-১ (মহানগর ও নগর) আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমির হাবিবুর রহমানের হলফনামায় তথ্য গোপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটির দাবি, শেয়ার ও ঋণ-সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাবিবুর রহমান প্রকাশ করেননি।
গতকাল রোববার বেলা চারটায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ আনা হয়। নগরের কাজীটুলা উঁচাসড়ক এলাকায় সিলেট-১ আসনে বিএনপি-মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীরের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সিলেট-১ আসনে বিএনপি প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। তিনি অভিযোগ করেন, হাবিবুর রহমান হলফনামায় কোম্পানি শেয়ার ও ঋণ–সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেননি। এটা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা ও রাজনৈতিক ভণ্ডামি।
রেজাউল হাসান কয়েস লোদী দাবি করেছেন, আরজেএসসির ফর্ম-১২ অনুযায়ী হাবিবুর রহমান ইবনে সিনা হাসপাতাল সিলেট লিমিটেডের পরিচালক এবং আল কারামা মেডিক্যাল সার্ভিসেস লিমিটেডের শেয়ারহোল্ডার। তবে নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় এ তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। এ ছাড়া শিডিউল-১০ প্রতিবেদনে ইবনে সিনা হাসপাতালের ২৪ কোটি টাকার ঋণ অনাদায়ী আছে, যা হলফনামায় প্রকাশিত হয়নি।
আসনটির বিএনপি প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট বলেন, ‘ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক সিলেট শাখায় হাবিবুর রহমানের বড় অঙ্কের ঋণ রয়েছে, যা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।’ এ তথ্য যাচাইযোগ্য উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশন ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিএনপি সংবাদ সম্মেলনে আহ্বান জানিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলার সব সংসদীয় আসনে বিএনপির নির্বাচনী সমন্বয়ক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। এ সময় মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির অভিযোগের বিষয়ে জানতে জামায়াতের প্রার্থী হাবিবুর রহমানের মুঠোফোনে কল করলেও তিনি সাড়া দেননি। তাই তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি। তবে মহানগর জামায়াতের আমির ও ১১-দলীয় জোট সিলেট মহানগরের সমন্বয়কারী মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘তাদের (বিএনপি) প্রার্থীর সম্পর্কে নানা তথ্য বেরিয়ে এসেছে। তাদের প্রার্থী হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপি। এখন জনগণকে বিভ্রান্ত করতে ভিন্ন তথ্য ছড়াচ্ছে। তবে শিগগির লিখিতভাবে এ বিষয়ে আমরা নিজেদের অবস্থান জানাব।’