জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই সেনা কর্মকর্তাসহ চার আসামির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও এক সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের মধ্য দিয়ে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ এই মামলার বিচারকাজ চলছে। এই ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
মামলার চার আসামির মধ্যে দুজন গ্রেপ্তার আছেন। তাঁরা হলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম ও মেজর মো. রাফাত–বিন–আলম। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় তাঁরা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) কর্মরত ছিলেন।
অপর দুই আসামি পলাতক। তাঁরা হলেন পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান।
আজ এই মামলায় সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। পরে এই মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন বিশ্বজিৎ রাজবংশী।
জবানবন্দিতে বিশ্বজিৎ রাজবংশী বলেন, তিনি পেশায় একজন এসি মেকানিক। তাঁর বাবা গংগাচরণ রাজবংশী ছিলেন জাদুশিল্পী শাহিন শাহর ব্যক্তিগত গাড়িচালক। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই আনুমানিক রাত ১০টার দিকে তাঁর বড় ভাই মিঠু রাজবংশীর ফোনে একটি কল আসে। সেই ব্যক্তি ফোনকলে বলেন, তাঁর বাবাকে (গংগাচরণ রাজবংশী) বিজিবি গুলি করেছে। রামপুরা ব্রিজের ওয়াসা গেটের সামনে তাঁর বাবা পড়ে আছেন। পরে তাঁর মা, এলাকার দুই–তিনজনসহ তিনি (বিশ্বজিৎ) ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা গিয়ে দেখেন, তাঁর বাবার বুকের ডান পাশে একটি গুলি লেগে পিঠ দিয়ে বের হয়ে গেছে। পরদিন তাঁর বাবার মরদেহ পোস্তগোলা শ্মশানে সৎকার করেন তাঁরা।
মামলার আসামি রেদোয়ানুল, রাফাত, রাশেদুল ও মশিউর এই হত্যায় জড়িত বলে জবানবন্দিতে বলেন বিশ্বজিৎ রাজবংশী। তিনি বলেন, বাবা হত্যার বিচার চান।