default-image

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আজ (১২ জুলাই) সকালে একটি গ্রুপ ছবি শেয়ার করেছেন।

লামীয়া মওলা: আমাদের দলে ১৫ জনের মতো সদস্য, যাঁর মধ্যে ১১ জন কানাডায় এসেছেন। অন্যরা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়ে কাজ করছেন। নাসা ছবি প্রকাশ করার পরই আমরা একত্র হয়ে ছবিটি তুলেছি নিজেদের মুঠোফোনে। এটি একটি তাৎক্ষণিক তোলা ছবি।

জেমস ওয়েবের সঙ্গে যুক্ত হলেন কীভাবে?

লামীয়া মওলা: যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি করার সময় হাবল টেলিস্কোপ নিয়ে কাজ করার সুযোগ হয়। তখনই আমার আগ্রহ তৈরি হয় জেডব্লিউএসটিতে কাজ করার। পিএইচডি শেষ করে জেডব্লিউএসটিতে কাজ করার সুযোগ খুঁজতে থাকি এবং একপর্যায়ে কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির দলে কাজ করার সুযোগ পাই।

জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ প্রকল্পে কাজ করতে এত আগ্রহী হয়েছিলেন কেন?

লামীয়া মওলা: মহাকাশ গবেষণায় জেডব্লিউএসটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী একটি প্রকল্প। এতে যুক্তরাষ্ট্রের নাসা, কানাডা স্পেস এজেন্সি এবং ইউরোপীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসা) যুক্ত। প্রকল্পটির ব্যয় প্রায় ১০ বিলিয়ন (এক হাজার কোটি) মার্কিন ডলার (প্রায় ৯৫ হাজার কোটি টাকা)। মহাবিশ্ব শুরু হওয়ার কয়েক শ মিলিয়ন বছর পর প্রথম যে গ্যালাক্সিগুলো গঠিত হয়েছে, তার ছবি তোলার জন্য এই টেলিস্কোপ তৈরি করা হয়েছে। এটি হাবলের উত্তরসূরি এবং এটি পৃথিবী থেকে দেড় মিলিয়ন (১৫ লাখ) কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে।

জেমস ওয়েবের তোলা ছবি বা গবেষণায় আপনাদের কাজ কোন ধরনের?

লামীয়া মওলা: ১২ জুলাই নাসা প্রথম যে ছবিটি প্রকাশ করেছে, আমাদের দল সেই ক্লাস্টার নিয়েই কাজ করে। জেডব্লিউএসটিতে যে চারটি ইনস্ট্রুমেন্ট (সরঞ্জাম) আছে, তার মধ্যে একটি ইনস্ট্রুমেন্ট আমাদের দল বানিয়েছে। এটি বানানোর জন্য আমরা পুরস্কার হিসেবে এ বছর ২০০ ঘণ্টা ‘গ্যারান্টিক টাইম’ পেয়েছি। মানে এই বছরের মোট ২০০ ঘণ্টা আমরা টেলিস্কোপ দিয়ে ছবি তুলতে পারব এবং সেগুলো বিশ্লেষণ করতে পারব। এ সময়ের মধ্যে পাঁচটি ছবি তোলা হবে। আমরা যে ছবিটি তুলেছি, এতে কমপক্ষে ১০ হাজার গ্যালাক্সি রয়েছে। ছবিটি মহাবিশ্বের অতি ক্ষুদ্র একটি অংশের। আমরা যদি সম্পূর্ণ আকাশের ছবি তুলতে পারি, তাহলে ধারণা করা যাবে, মোট কত গ্যালাক্সি রয়েছে। এই ছবি বিশ্লেষণ করে আমরা মহাবিশ্বের প্রথম সৃষ্টি হওয়া গ্যালাক্সি খুঁজে বের করার চেষ্টা করব।

নাসার ছবিতে কিছু কিছু জায়গায় আলোর বিচ্ছুরণের মতো দেখা যাচ্ছে। এগুলো কী?

লামীয়া মওলা: যেখানে স্পাইকের মতো বিচ্ছুরণ দেখা যাচ্ছে, সেগুলো একেকটা নক্ষত্র। এগুলো আমাদের মিল্কিওয়ের। আর ছড়ানো–ছিটানো কমলার মতো জায়গাগুলো একেকটি গ্যালাক্সি। সাদা আর নীলচে রঙের স্পেকট্রাগুলো কাছের, লালগুলো দূরের।

আপনি তো ঢাকায় পড়াশোনা করেছেন?

লামীয়া মওলা: হ্যাঁ। ঢাকার উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল থেকে ও লেভেল এবং এ লেভেল করে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাই।

প্রথম আলো: বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা কীভাবে মহাকাশ গবেষণায় যুক্ত হতে পারে?

লামীয়া মওলা: প্রথমে বলব, আমাদের দেশে বেশ কিছু টেলিস্কোপের ব্যবস্থা করতে হবে। আমি নিজে অবশ্য কিছু সংগ্রহ করেছি। দেশে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি। কিন্তু কীভাবে নিয়ে আসতে হবে, সেই প্রক্রিয়া জানা নেই। এগুলো মেয়েদের জন্য নিয়ে আসব, যেন আমাদের মেয়েরা এগুলো পরিচালনা করতে পারে। আর তাত্ত্বিক পড়াশোনার থেকে ব্যবহারিক দিকে জোর দিতে হবে, যেন হাতে–কলমে শেখা যায়। নিজে ঘেঁটেঘুঁটে পড়াশোনা করার জন্য অভ্যস্ত হতে হবে। এভাবে যদি আমরা কোনো কিছু বোঝার চেষ্টা করি, তাহলে মাথায় গেঁথে যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় জোর দিতে হবে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন