সুপ্রিম কোর্ট নিয়ে অসত্য সংবাদ প্রকাশ–প্রচার করলে আদালত অবমাননার দায় নিতে হবে

সুপ্রিম কোর্টফাইল ছবি: বাসস

ভবিষ্যতে সুপ্রিম কোর্টসংক্রান্ত কোনো মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর বা অসত্য সংবাদ প্রকাশ বা প্রচার করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আদালত অবমাননার কার্যক্রমের জন্য আইনানুগভাবে দায়ভার গ্রহণ করতে হবে। আজ সোমবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এমনটি উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিটি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে আজ প্রকাশ করা হয়েছে। এর বিষয় হচ্ছে, ‘গণমাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে পেশাগত মানদণ্ড অনুসরণপূর্বক বস্তুনিষ্ঠ ও সঠিক সংবাদ প্রচার প্রসঙ্গে।’

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করায় আপিল বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এবং বেঞ্চ প্রদান না করায় হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি ছুটিতে গিয়েছেন—এমন ভুল সংবাদ টিভি স্ক্রলসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, যা সম্পূর্ণরূপে অসত্য, বিভ্রান্তকর এবং অত্যন্ত দুঃখজনক।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গণমাধ্যমে এ ধরনের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার দেশের সর্বোচ্চ আদালত সম্পর্কে জনমনে ভ্রান্ত ধারণার সৃষ্টি করে এবং সুপ্রিম কোর্টের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে। তদুপরি দেশের সর্বোচ্চ আদালত সম্পর্কে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন আদালত অবমাননার শামিল। অথচ সুপ্রিম কোর্টসংক্রান্ত কোনো সংবাদ প্রকাশ বা প্রচারের পূর্বে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীরা যদি সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রি থেকে সংবাদের যথার্থতা যাচাই করতেন, তবে এহেন অনভিপ্রেত পরিস্থিতির উদ্ভব হতো না।

আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম তাঁর মায়ের অসুস্থতার কারণে ছুটি গ্রহণ করেছেন এবং হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ফরিদ আহমেদ অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি থাকায় সাময়িকভাবে বিচারকার্যে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এই বিষয়গুলোর সঙ্গে গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

বিজ্ঞপ্তির শেষাংশে বলা হয়, ‘এমতাবস্থায়, সব গণমাধ্যমকর্মীদের সুপ্রিম কোর্টসংক্রান্ত কোনো সংবাদ প্রকাশ বা প্রচারের আগে সুপ্রিম কোর্টের মিডিয়া ফোকাল পারসন অথবা রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতা ও সত্যতা যাচাই করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টসংক্রান্ত কোনো মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর বা অসত্য সংবাদ প্রকাশ বা প্রচার করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে উক্তরূপ আদালত অবমাননার কার্যক্রমের জন্য আইনানুগভাবে দায়ভার গ্রহণ করতে হবে।’