পড়াশোনা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়া আলামিনের পাশে দাঁড়াল সোনালী ব্যাংক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়া মো. আলামিন হোসেনের পাশে দাঁড়িয়েছে রাষ্ট্রমালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক পিএলসি। আলামিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।
আজ বুধবার ব্যাংকের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের ছেলে আলামিন। তাঁর বাবা আলেফ আলী পেশায় ভ্যানচালক। সাত সদস্যের পরিবারে আলামিন বড় সন্তান।
আলামিন ২০২৩ সালে ডাঁসা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বাণিজ্য বিভাগে জিপিএ–৫ পেয়ে এসএসসি এবং ২০২৫ সালে শৈলকুপার কাতলাগাড়ি ডিগ্রি কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ–৫ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন। এরপর একটি বৃত্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকার একটি কোচিং সেন্টারে বিনা মূল্যে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির প্রস্তুতি নেন। ভর্তি পরীক্ষায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সি’ ইউনিটে ২০তম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বি’ ইউনিটে ৫২৬তম হন। স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতা ও ধারদেনা করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু পাঁচ মাসের মাথায় টাকার কাছে সব স্বপ্ন আটকে যায়।
২৩ সেপ্টেম্বর ‘ধারদেনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, অর্থাভাবে পাঁচ মাস পর ফিরলেন বাড়িতে’ শিরোনামে প্রথম আলো অনলাইনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। সংবাদটি সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হলে তারা আলামিনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন নির্বিঘ্ন রাখতে সহায়তার উদ্যোগ গ্রহণ করে।
গতকাল মঙ্গলবার ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় আলামিন হোসেনের শিক্ষা ব্যয় নির্বাহের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোনালী ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল থেকে এককালীন ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার চেক আলামিন হোসেনের হাতে তুলে দেন।
পাশাপাশি আলামিনের শিক্ষাজীবন সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত সোনালী ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। এ সময় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান, পরিচালনা পর্ষদের পরিচালকেরা ও প্রতিষ্ঠানের কোম্পানি সেক্রেটারি উপস্থিত ছিলেন।