ভোটের প্রচার শুরুর দিন থেকেই ঢাকায় জোরালো অভিযান চালাবে পুলিশ
ঢাকায় মোট ২ হাজার ১৩১টি কেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রে ২৫ হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচার–প্রচারণা শুরুর দিন ২২ জানুয়ারি থেকেই সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে জোরালো অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ওই দিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ডিএমপি সদর দপ্তরসহ আটটি অপরাধ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মাঠে উপস্থিত থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও পুলিশের তৎপরতা তদারক করবেন।
জানতে চাইলে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) এস এন মো. নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও ফ্যাসিস্টদের দমনে সারা দেশে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ ২’–এর আওতায় রাজধানীতে অভিযান চলছে। এরই অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচার–প্রচারণা শুরুর দিন থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারে আরও জোরালো অভিযান চালাবে ডিএমপি।
ডিএমপি সূত্র জানায়, সোমবার ডিএমপি সদর দপ্তরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর নেতৃত্বে বেলা ১১টায় শুরু হয়ে এই সভা চলে বেলা ১টা পর্যন্ত। এতে ডিএমপির সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) থেকে অপরাধ বিভাগের উপকমিশনার এবং ডিএমপি সদর দপ্তরের তদূর্ধ্ব কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকার ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর অবস্থানে থাকার বিষয়ে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
—কোনো পুলিশ সদস্য কোনো প্রার্থীর পক্ষ নেবেন না। —কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা প্রার্থীদের দেওয়া কোনো খাবার গ্রহণ করতে পারবেন না। —সুষ্ঠু ভোট অনুষ্ঠানে পুলিশ সদস্যদের নিরপেক্ষ থাকতে হবে।
পুলিশের একাধিক ঊর্ধ্বতন প্রথম আলোকে কর্মকর্তা বলেন, জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা মহানগরের ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তার বিষয়টিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচার–প্রচারণা শুরুর দিন অর্থাৎ ২২ জানুয়ারি থেকে ডিএমপির বিশেষায়িত কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট ও গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) মোতায়েন থেকে ঢাকায় সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে জোরালো অভিযান চালাবে। ডিএমপির সহকারী কমিশনার থেকে শুরু করে অতিরিক্ত কমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তারা ওই দিন থেকে মাঠে উপস্থিত থাকবেন। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মাঠপর্যায়ের পুলিশের তৎপরতা তদারক করবেন তাঁরা। কোনো পুলিশ সদস্য কোনো প্রার্থীর পক্ষ নেবেন না। কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা প্রার্থীদের দেওয়া কোনো খাবার গ্রহণ করতে পারবেন না। সুষ্ঠু ভোট অনুষ্ঠানে পুলিশ সদস্যদের নিরপেক্ষ থাকতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের ভোটদানে প্রতিবন্ধকতা বা সমস্যার সৃষ্টি হয় কি না, সে বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা আগাম তথ্য দিয়ে সহায়তা করবেন।
ডিএমপি সূত্র জানায়, ঢাকায় নিরাপত্তাঝুঁকি রয়েছে, এমন কেন্দ্রগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ এবং ঝুঁকি নেই, এমন কেন্দ্রগুলোকে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে ধরে নিরাপত্তার পরিকল্পনা নিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। ঢাকায় মোট ২ হাজার ১৩১টি কেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রে ২৫ হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে ১ হাজার ৮২৮টি। আর সাধারণ কেন্দ্র রয়েছে ৩০৩টি। পুলিশের বাইরে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় ১০ জন আনসার সদস্য ও সহকারী সেকশন কমান্ডার পদের একজন আনসার সদস্য অস্ত্রসহ থাকবেন। এ ছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তার নিরাপত্তায় একজন অস্ত্রসহ আনসার সদস্য থাকবেন। ভোটের আগেই দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভোটকেন্দ্রগুলোর সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। সেই তথ্য যাচাই–বাছাই করে ডিএমপি কমিশনারের কাছে প্রতিবেদন দিতে হবে।
ডিএমপির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, ভোট গ্রহণের তিন-চার দিন আগে রাজধানীতে তিন হাজার গাড়ি রিকুইজিশন করা হবে। এসব গাড়িতে ভোটের সরঞ্জাম, নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের আনা–নেওয়া হবে। এ ছাড়া পুলিশের টহল দলও এসব গাড়ি ব্যবহার করবে।