পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ–হত্যা
ডেথ রেফারেন্স শুনানি এগিয়ে আনতে সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা মামলার রায় দ্রুত কার্যকরে ডেথ রেফারেন্স শুনানি এগিয়ে আনতে সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একইসঙ্গে এ ব্যাপারে অ্যার্টনি জেনারেলের কার্যালয়েরও দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আজ রোববার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব কথা বলেন। ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় আজ এই মামলার রায় ঘোষণা করেছেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসকে বলবেন, এই মামলার ডেথ রেফারেন্স শুনানির ক্রমিক (সিরিয়াল) যেন আইনগত প্রক্রিয়া মেনেই কিছুটা এগিয়ে আনা যায়, সে জন্য সুপ্রিম কোর্ট ও অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে। এই ডেথ রেফারেন্স শুনানির পরে যদি মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে, তখন রায় কার্যকর করতে বেশি সময় লাগবে না।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যখন বিচারিক আদালতে কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, সেটা ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে শুনানি করতে হয়। হাইকোর্টে এ রকম ডেথ রেফারেন্সের সংখ্যা অনেক আছে। যেগুলোর সময় অনুযায়ী শুনানি হয়। আগেরটা আগে, পরেরটা পরে হিসেবে। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে দুই–একটা ঘটনা হয়েছে। সরকার এই শিশু ধর্ষণ–হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্সের শুনানি এগিয়ে আনতে সুপ্রিম কোর্টের নজরে আনবে।
এই শিশুধর্ষণ–হত্যার আসামি গ্রেপ্তার, দ্রুত সময়ের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়াসহ সাম্প্রতিক সময়ে দায়িত্ব পালনে বেশ কিছু সাফল্যের জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের পুরষ্কৃত করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই মামলাটি চাঞ্চল্যকর। তিনি আজ পুলিশকে পুরস্কৃত করার কথা ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দঘাটে পুলিশ অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। এতে অন্তত ৫০ ব্যক্তির প্রাণ বেঁচে গেছে। গজারিয়াতে একজন কিশোরীকে ধর্ষণ–হত্যার পরে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। কোনো ‘ক্লু’ পাওয়া যাচ্ছিল না। সে ক্ষেত্রেও খুব সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার করে পুলিশ। স্বীকারক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধ দমনে পুলিশকে যেমন পুরস্কৃত করা হবে, ঠিক তেমনি কোনো গাফিলতি বা অন্যায়ের জন্য তিরস্কার ও বিভাগীয় শাস্তির ব্যবস্থাও বহাল থাকবে। পুলিশের ভালো কাজের যেমন মূল্যায়ন করা হবে, তেমনি কোনো সদস্যের নিষ্ক্রিয়তা বা অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাকেও ছাড় দেওয়া হবে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পল্লবীর ঘটনাটি নিয়ে সারা দেশে একটা তোলপাড় অবস্থা সৃষ্টি হয়। জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে দ্রুততার সঙ্গে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করে খুব সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে এই বিচারকার্য পরিচালনায় সহযোগিতা করা হয়েছে। বিচার করেছেন আদালত। আদালত এই ঈদের ছুটির মধ্যে ছুটি বাতিল করে বা জুডিশিয়াল যে লিভ আছে, সেটা বাতিল করে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। তাঁরা একটা রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এটা করেছেন। তবে যাতে অবিচার না হয়, সেজন্য রাষ্ট্র থেকে আসামিপক্ষের জন্য একজন আইনজীবী নিয়োগ করা হয়। চিকিৎসক সাক্ষী দিয়েছেন। পুলিশ সাক্ষী দিয়েছে। এখানে যেহেতু আসামি দুজন, যেহেতু ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়েছে, ডিএনএ পরীক্ষা ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হয়েছে, সবকিছু মিলিয়ে এই মামলাটা খুব বেশি কঠিন কিছু ছিল না প্রমাণ করার জন্য। রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আদালত ন্যায়বিচার করেছেন, আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন বলা যায় যে, বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে এবং পুলিশের গ্রেপ্তার ও তদন্ত কার্যক্রমের ইতিহাসে এটা একটা মাইলফলক। এভাবে জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী তাঁরা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চান। এ ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা পাওয়ার আশা করেন তাঁরা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারত থেকে ‘পুশইন’ ঠেকাতে সীমান্তে বিজিবি সক্রিয় আছে। ভারতে কাল সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া বিজিবি–বিএসএফ মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ে বৈঠকে দুই দেশের সীমান্তের সমস্যা সমাধানের বিষয় গুরুত্ব পাবে। এসব সমস্যা সমাধানে কূটনৈতিক পর্যায়েও আলোচনা চলছে।