পরিবেশ ধ্বংসের পেছনে কোথাও না কোথাও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা আছে: বাপা

‘আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশের পরিবেশ রক্ষার লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন। আজ শনিবার ডিআরইউ মিলনায়তনেছবি: প্রথম আলো

দেশের পরিবেশ ধ্বংসের পেছনে এর আগে যাঁদের নাম এসেছে, কোথাও না কোথাও তাঁদের পেছনে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা আছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এখন রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের কাছ থেকে পরিবেশ রক্ষায় স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি আদায়ের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

আজ শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাপা ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের পরিবেশবিষয়ক সংগঠন বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল নেটওয়ার্কের (বেন) নেতারা এ কথা বলেন।

‘আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশের পরিবেশ রক্ষার লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলসমূহের প্রতি আহ্বান’ শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাপা ও বেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বাপার সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদার।

অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদার অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন খাতে সংস্কার কার্যক্রম নিলেও পরিবেশ খাতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তিনি বলেন, পরিবেশ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য—এই গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে কোনো বাস্তব সংস্কার বা বাজেট দেখা যাচ্ছে না। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনাও নেই।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী অধিকাংশ দল ও প্রার্থী পুঁজিপতিদের প্রতিনিধি বলেও মন্তব্য করেন নুর মোহাম্মদ তালুকদার।

পরিবেশ উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি আদায়ে সাধারণ মানুষকে আরও সোচ্চার ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বাপা সভাপতি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে বাপার পক্ষ থেকে পরিবেশবিষয়ক সুপারিশ ইতিমধ্যে তুলে ধরা হয়েছে। সংলাপ হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগে তাঁরা খুব বেশি আশাবাদী নন বলেও জানান তিনি।

বাপার সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবিরের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাপার সহসভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, মাথাপিছু আয় বাড়লেও সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, দেশের মানুষের গড় আয়ু কমছে। এর অর্থ হলে মাথাপিছু আয় বাড়ার সুফল নাগরিক পর্যায়ে পৌঁছেনি।

মানুষের গড় আয়ু কমার অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি বায়ুদূষণ ও সামগ্রিক পরিবেশদূষণের কথা উল্লেখ করে বলেন, দূষণের বিরুদ্ধে এখনই গা ঝাড়া দিয়ে দাঁড়াতে না পারলে বড় সংকটে পড়তে হবে। তিনি পরিবেশ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সততা, মানসিকতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ৯ ও ১০ জানুয়ারি বাপা ও বেনের উদ্যোগে বাপা-বেন ২৬তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেই সম্মেলনের সুপারিশ তুলে ধরেন মো. আলমগীর কবির। তিনি বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নদনদী দখল রোধ, জলাবদ্ধতা নিরসন, উপকূল ও বনাঞ্চল রক্ষা এবং পরিকল্পিত নগরায়ণ নিয়ে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

মো. আলমগীর কবির বলেন, আগামী নির্বাচনে যে রাজনৈতিক দলই সরকার গঠন করুক, তাঁদের কাছ থেকে পরিবেশ রক্ষায় সুস্পষ্ট পরিকল্পনা জানতে হবে। মানুষকে এ বিষয়ে সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বাপার সহসভাপতি জাকির হোসেন বলেন, দেশের যেখানেই পরিবেশ ধ্বংস হয়েছে, সেখানেই রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার ছাপ মিলেছে। রাজনৈতিক দলগুলোকে এখনই এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানাতে হবে। সরকারকে বিষয়গুলো নিয়ে অবস্থান ব্যক্ত করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন বাপার সহসভাপতি মহিদুল হক খান।