মুক্তিপণ দিয়েও বাঁচানো যায়নি শিশুটিকে, হত্যাকারীর ফাঁসির রায়
দেড় বছর আগে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে শিশু তাওহীদ ইসলামকে অপহরণ করেন মো. মকবুল হোসেন নামের এক ব্যক্তি। অপহরণের পর তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দেওয়ার পরও শিশুটিকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় মকবুলের ফাঁসির রায় দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত।
ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪–এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান আজ বুধবার এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আমৃত্যু কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। আসামির স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে জরিমানার টাকা আদায় করে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এরশাদ আলম জানান, রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে হাজির ছিলেন। পরে সাজাপরোয়ানা দিয়ে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর শিশুটির মা মোসা. তাসলিমা আক্তার, বোন ও নানি কান্নায় ভেঙে পড়েন। রায়ে তাঁরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। মৃত্যুদণ্ড হলেই শান্তি পাবে বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবারটির সদস্যরা।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার আবদুল্লাহপুর এলাকার রসুলপুর জামিআ ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় নাজেরা বিভাগে পড়াশোনা করত ১০ বছরের শিশু মো. তাওহীদ ইসলাম। গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে পাঁচটায় মাদ্রাসার উদ্দেশে বের হয়ে রাত সাড়ে আটটায় ক্লাস শেষে মামার দোকানে যায়। মামাকে না পেয়ে একাই বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেয়। পথিমধ্যে আসামি মো. মকবুল হোসেন তাকে অপহরণ করে মুক্তিপণ চান। পরদিন সকাল সাড়ে ১০টায় আসামির পছন্দমতো জায়গায় মুক্তিপণ রেখে আসেন ভুক্তভোগীর মামা। টাকা পেয়েও আসামি শিশুটিকে ফেরত দেননি। পরে পরিবারটি র্যাবের কাছে যায়। র্যাব অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেপ্তার করে। সেপটিক ট্যাংক থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহত শিশুর মা মোসা. তাসলিমা আক্তার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্ত শেষ করে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এ কে এম সাইদুজ্জামান গত বছরের ৩১ জুলাই মকবুলের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৩০২/২০১ ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। আসামির বিরুদ্ধে ১৮ জন সাক্ষ্য দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মকবুল ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার লাখিরচর এলাকার বাসিন্দা।