তথ্য অধিকার আইনের সংশোধন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রহসন

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে হওয়া তথ্য অধিকার আইনের সংশোধনকে প্রহসন বলে মনে করে তথ্য অধিকার ফোরাম। এটিকে অন্তর্বর্তী সরকারের অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের উদাহরণ হিসেবেও উল্লেখ করেছে তারা। আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ কথা বলেছেন তথ্য অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক শাহীন আনাম।

বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, ফোরামের ধারাবাহিক তাগিদ সত্ত্বেও দীর্ঘ সময়ে প্রধান তথ্য কমিশনার ও কমিশনারদের নিয়োগ করা হয়নি। এর ফলে জনগণের অর্থে পরিচালিত তথ্য কমিশনকে অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে। এতে তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। ফোরাম এমন কার্যক্রমের নিন্দা জানায়।

তথ্য অধিকার আইনের অন্তস্থিত চেতনার পরিপূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য ন্যূনতম কয়েকটি সংশোধন অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানায় তথ্য অধিকার ফোরাম। সেগুলো হলো তথ্যের সংজ্ঞায় নোট সিট অন্তর্ভুক্ত করা, যার মাধ্যমে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নথি পরিচালনকারী প্রত্যেক কর্মকর্তা বা কর্মচারী কে কী ভূমিকা পালন করেছেন, তা স্পষ্ট বোঝা যায়।

কর্তৃপক্ষের আওতা বৃদ্ধি করে সরকারের পক্ষে অথবা সরকার বা সরকারি কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ কোনো বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান, নির্বাচন কমিশন দ্বারা নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা স্থানীয় সরকার সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান যুক্ত করা।

প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনারদের পদমর্যাদা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় তাঁদের পদমর্যাদা, পারিশ্রমিক, ভাতা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধা যথাক্রমে আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের অনুরূপ নির্ধারিত করা এবং জরিমানায় আপিল কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় আনা।

তথ্য অধিকার ফোরামের বিবৃতির সঙ্গে সহমত জানিয়েছেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, নিজেরা করির কো–অর্ডিনেটর খুশী কবির, বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, ব্লাস্টের অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন প্রমুখ।