কুষ্টিয়ায় পীরের আস্তানায় হামলা চালিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাইল মাকাম
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে পীরের আস্তানায় হামলা চালিয়ে হত্যার ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সুফি সমাজকেন্দ্রিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘মাকাম: সেন্টার ফর সুফি হেরিটেজ’। একই সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনি প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মাকাম এ দাবি জানায়।
শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে দৌলতপুর উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে আস্তানায় হামলা চালিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে ও কুপিয়ে ‘পীর’ শামীম আল জাহাঙ্গীরকে হত্যা করা হয়। এ সময় আস্তানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ হামলায় মাজারের বেশ কয়েকজন আহত হন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মাকাম উল্লেখ করেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ৯৭টি মাজারে হামলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় ৩ জন নিহত ও ৪৬৮ জন আহত হন। এর মধ্যে ১১টি ঘটনায় মামলা হলেও কোনোটিরই কার্যকর অগ্রগতি হয়নি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে হামলার শিকার মাজারগুলোর ক্ষতিপূরণ, সংস্কার ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়ে মাকামের পক্ষ থেকে ১২টি রাজনৈতিক দলকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দলগুলো তাদের ইশতেহারে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু উল্লেখ করেনি, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের ধারাবাহিকতায় বর্তমান বিএনপি সরকারের সদিচ্ছার অভাব ও দৃশ্যমান গাফিলতির ফলেই কুষ্টিয়ায় এমন নৃশংস ও ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। মাকাম এই অমানবিক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছে।