দেশের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে অনেক দল, কিন্তু ধারা দুটি। একটি বুর্জোয়া, অন্যটি সমাজতান্ত্রিক। বুর্জোয়ার ধারার রাজনীতির ভুক্তভোগী আমরা। দেশ স্বাধীন হলেও ব্রিটিশ বা পাকিস্তান থেকে ভিন্ন কিছু হয়নি। স্বাধীন হয়েছি ৫০ বছর, কিন্তু উপনিবেশ মানসিকতা থেকে এখনো মুক্তি মেলেনি। এখন আমরা ধনীদের উপনিবেশ।

লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে উল্লেখ করে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘সমাজতান্ত্রিকদের কিছু করার আগেই পরাজিত হয়ে যাওয়ার মনোভাব আছে। মাহবুবুলের (কমরেড মাহবুবুল হক) মনে সেটি ছিল না। তাঁর সময়ে তাঁর সামনে সমাজতান্ত্রিকদের দৃষ্টান্ত খুব বেশি ছিল না। তবে তিনি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, তিনি জয়ী হবেন। বর্তমানে বামপন্থীরা জনগণের কাছে পৌঁছাতে পারে না৷ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে থাকে। মানুষকে পাশে আনতে পারে না।’

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, কমরেড আ ফ ম মাহবুবুল হকের সময়ে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনে বেশি মানুষ ছিল না। তখন তিনি একাই আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন। অনেক নির্যাতন আর বাধার পরেও মাথা নত করেনি। তবে এত বছরে বাঙালি জাতীয়তাবাদ এবং বাম রাজনীতি যেভাবে যতটুকু অগ্রসর হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। তাঁর কোন দিকে যেতে হবে, সেই পথ স্পষ্ট ছিল। কখনো বিভ্রান্ত হয়নি, বিচ্যুতি হননি।

কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি শাহ আলম বলেন, এখন অনেক বামের সৃষ্টি হয়েছে। বামপন্থীরা ভাগ হতে হতে প্রান্তিক জায়গায় চলে গেছে। এগুলো আমাদের ভুল। আমরা অনেক ভুল করেছি, তাই ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দেশে অপশাসনের কর্তৃত্ব চলছে। নব্য উদার অর্থনীতির চলছে। দেশের পাঁচ ভাগ মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা আর বাকি ৯৫ ভাগের অর্থনৈতিক অবস্থা এখন দুই রকম।

মাহবুবুল হকের স্মৃতিচারণা করে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, তরুণদের, সাধারণ মানুষের সব আবেগ ছিল তাঁকে ঘিরে। ওই আবেগ ছিল বুদ্বুদের মতো। তাঁর পাশে থাকলে কেউ আর আমাকে দেখত না। আজকের বাংলাদেশে যদি তিনি থাকতেন, তাহলে হয়তো অন্য কিছু করতে পারতেন।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, মাহবুবুল হক সব সময়ই লড়াইয়ের অগ্রে ছিলেন। কখনো পিছে ছিলেন না।

আলোচনায় অন্যদের মধ্যে জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবদুস সাত্তার প্রমুখ আলোচনা করেন।

মাহবুবুল হক ২০১৭ সালের ৯ নভেম্বর কানাডায় মারা যান। পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী সেখানেই তাঁকে সমাহিত করা হয়। তিনি ছিলেন ষাট ও সত্তর দশকের ছাত্র রাজনীতির অবিচল কণ্ঠস্বর। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি সততা মেধা আর সাহসিকতা দিয়ে সহকর্মীদের উজ্জীবিত করতেন। ২০০৪ সালের ২৫ অক্টোবর ঢাকায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের হামলায় আহত হন। এর পরেই তাঁর জীবনে ছন্দপতন নেমে এসেছিল। একসময় প্রায় স্মৃতিশক্তিও হারিয়ে ফেলেন তিনি।