এসএসসিতে অকৃতকার্য হওয়া বিষয়ে ৩ মাসের মধ্যে পরীক্ষার সুযোগ ইতিবাচকভাবে বিবেচনা: মাহদী আমিন
এসএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা যাতে এক বছর অপেক্ষা না করে তিন মাসের মধ্যে শুধু অকৃতকার্য বিষয়ে আবার পরীক্ষা দিতে পারে, সেই সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তবে এবারই হয়তো এ ব্যবস্থা চালু করা কঠিন হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আজ শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের নিয়ে গণসাক্ষরতা অভিযান আয়োজিত ‘চ্যালেঞ্জড শিক্ষার্থী সম্মেলন, ২০২৬’–এ তিনি এ কথা বলেন। সম্মেলনে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা এসএসসি পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ বেশ কিছু শিক্ষার্থী নিজেদের নানা সমস্যা ও অনুভূতির কথা তুলে ধরে। কয়েকজন অভিভাবক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও বক্তব্য দেন।
গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এবার শুধু ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার নেমে এসেছে ৬৪ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশে, যা ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। আর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ।
অবশ্য পরে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের পর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৯ জন। প্রথমবার ফল প্রকাশের সময় অকৃতকার্য হওয়া ৪ হাজার ৫৮৫ পরীক্ষার্থী পরে উত্তীর্ণ হয়েছে। গতবার এ সংখ্যা ছিল ২ হাজার ২০৭; অর্থাৎ এবার অকৃতকার্য থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি।
বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পরীক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হলে পরের বছরের পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে ওই বিষয়গুলোতে অথবা চাইলে সব বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পায়। এ জন্য তাকে এক বছর অপেক্ষা করতে হয়।
আজকের সম্মেলনে উপস্থিত পরীক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের পক্ষ থেকে দাবি ও পরামর্শ জানানো হয়, এক বছর অপেক্ষা না করিয়ে ফল প্রকাশের তিন মাসের মধ্যে অকৃতকার্য বিষয়ে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক। বিশেষ করে, যারা মাত্র একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে, তাদের এ সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, এসএসসিতে ভালো ফল করতে পারেনি, এমন শিক্ষার্থীদের তালিকা করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গড়ে তোলার জন্য যার যেখানে প্রয়োজন, সে অনুযায়ী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সচিবের সঙ্গে আলোচনা চলছে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পথ তৈরি করা হবে। কাউকে কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে যুক্ত করা হবে, কাউকে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করা হবে। কারও ব্যবসার প্রতি আগ্রহ থাকলে তাকে ব্যবসা শুরুর জন্য একটি তহবিল দেওয়া হতে পারে। বিদেশে জনশক্তি রপ্তানিরও সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে তৃতীয় ভাষা শেখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিন বা ছয় মাসের কোর্স করতে পারলে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ সহজ হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মাহদী আমিন বলেন, ‘আবার অনেকে আছে, যারা পড়াশোনায় ভালো। কোনো একটা কারণে হয়তো ভালো ফল হয়নি। তাহলে তোমরা সামনের দিনে পরীক্ষা দেবে। ইতিমধ্যে এখানকার শিক্ষক ও অভিভাবকদের কাছ থেকে শুনেছি, এক বছর অপেক্ষা না করে যে বিষয়ে ফেল করেছে, সে বিষয়ে তিন মাসের মধ্যে আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ আছে কি না। আমরা কথা দিচ্ছি, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে বিষয়টি সর্বোচ্চ ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে।’
এক বছর অপেক্ষা না করে কীভাবে তিন মাসের মধ্যে অকৃতকার্য বিষয়ে আবার পরীক্ষা নেওয়া যায়, তা দ্রুত বিবেচনা করা হবে জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, এবারই হয়তো এ ব্যবস্থা চালু করা কঠিন হবে। তবে এ বিষয়ে দ্রুত ইতিবাচকভাবে এগোবেন।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে যোগ দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। শিক্ষাক্রম যুগোপযোগী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে তাঁরা হুটহাট বা অপরিকল্পিত কোনো উদ্যোগ নেবেন না।
গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরীর সঞ্চালনায় সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান, গণসাক্ষরতা অভিযানের চেয়ারপারসন ইরাম মরিয়ম, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের এদেশীয় পরিচালক কবিতা বোস, পরিচালক নিশাত সুলতানা এবং তরুণ লেখক ও মোটিভেশনাল স্পিকার সাদাত হোসাইন, নিউজিল্যান্ড ডেইরির চিফ মার্কেটিং অফিসার আসিফ রউফ প্রমুখ।