অগ্নিকাণ্ডে দুই শতাধিক ঘর পুড়ে ছাই

নীলফামারীর সদর উপজেলার চড়াইখোলা ইউনিয়নের আরাজি চড়াইখোলা মাস্টারপাড়া গ্রামে গত বুধবার রাতে অগ্নিকাণ্ডে দুই শতাধিক ঘর, ঘরে রাখা আসবাবপত্র ও মালামাল সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এ ছাড়া অগ্নিদগ্ধ হয়ে তিনটি গরু ও একটি ছাগল মারা গেছে।
কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ১১টার দিকে ওই গ্রামের আবদুল ওয়াহেদের রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে নীলফামারী ও ইপিজেডের ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই গ্রামে গিয়ে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়। এ সময় মোজাম্মেল হক (৫০) বলেন, ওই দিন রাত ১১টার দিকে ওয়াহেদের রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হলে আগুনে গ্রামের ৫৭টি পরিবারের দুই শতাধিক ঘর, আসবাব, ধান-চাল, আলু, নগদ অর্থ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তিনটি গরু, একটি ছাগল, শতাধিক হাঁস-মুরগি ও কবুতর অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যায়। অগ্নিকাণ্ডে তাঁর নিজের দুটি ঘর, আসবাব ও ১৫ হাজার টাকা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
মহব্বত হোসেনের স্ত্রী সাহিদা বেগম (৩০) আহাজারি করে বলছিলেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেল। এখন আমার কী হবে?’ এ সময় কয়েকজন প্রতিবেশী বলেন, অগ্নিকাণ্ডে সাহিদার চারটি ঘরসহ সবকিছু পুড়ে ছাই হয়েছে।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ২০ কেজি করে চাল ও নগদ ১০০ টাকা করে বিতরণ করেছেন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আসাদুল হক শাহ্। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাবেত আলী ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
চড়াইখোলা ইউপির চেয়ারম্যান আবদুর রউফ মোল্লা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ইউপির পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার সকালে ও দুপুরের খিচুড়ি বিতরণ করা হয়েছে।
ইউএনও সাবেত আলী বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ঘর নির্মাণের জন্য দুই-এক দিনের মধ্যে টিনের ব্যবস্থা করা হবে। সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশের বিদ্যালয়ে থাকতে বলেছি।’