অপরাধ ঠেকাতে হাটবাজারে সিসি ক্যামেরা
সরফভাটার ক্ষেত্র বাজার। দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার অন্যতম বড় এই বাজারের আয়তন প্রায় আধা কিলোমিটার। দোকান পাঁচ শতাধিক। প্রতিদিন লোকসমাগম হয় হাজারের বেশি। কিন্তু ক্রেতা-বিক্রেতাদের পোহাতে হতো চুরি-ছিনতাইয়ের উৎপাত। তা ছাড়া ঠুনকো কারণে মারামারি তো ছিল নিত্যদিনের ব্যাপার। তবে এখন বদলে গেছে দৃশ্যপট। বাজারের সীমানায় কেউ কোনো কিছু করার সাহস পান না। কারণ সিসি ক্যামেরা। আটটি সিসি ক্যামেরার আওতায় পুরো বাজার এখন নজরদারিতে।
২৬ অক্টোবর সরেজমিনে দেখা গেছে, বাজারের চারপাশে লাগানো হয়েছে আটটি সিসি ক্যামেরা। বাজার লাগোয়া সরফভাটা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) কার্যালয় থেকে নজরদারি করা হচ্ছে। এ কাজে নিয়োজিত রয়েছেন ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রের পরিচালক। এ ছাড়া ইউপি চেয়ারম্যান যখন কার্যালয়ে থাকছেন, তখন তিনি নিজেই নজরদারি করছেন।
সরফভাটা ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুল ইসলাম সরফী প্রথম আলোকে বলেন, এ বছরের মার্চ মাসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন তহবিলের টাকায় সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এর ফলে বাজারে চোর ও ছিনতাইকারীর উৎপাত কমেছে। আগে প্রতিদিন কোনো না কোনো ঘটনা ঘটত। এখন মাসেও একটি চুরির ঘটনা নেই। এ ছাড়া পাড়ায় পাড়ায় ঝগড়া হলে তা এসে পড়ত বাজারের ওপর। মারামারি করে দোকান ভাঙচুর করত। সেটা একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। এর সুফল ভোগ করছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা।
শুধু ক্ষেত্র বাজার নয়, রাঙ্গুনিয়ার আরও তিনটি বড় বাজার-পদুয়ার রাজারহাট, রানির হাট ও দোভাষী বাজারে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। বর্তমানে পৌরসভা এলাকার রোয়াজার হাট ও মরিয়ম নগর চৌমুহনীতে ক্যামেরা বসানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
ক্ষেত্র বাজারের ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আবু তাহের প্রথম আলোকে বলেন, এখন ব্যবসায়ীরা অনেকটা স্বস্তিতে আছেন। চুরি-ছিনতাই নেই। অন্য হাটবাজারেও এ ধরনের উদ্যোগ নিতে পারে। উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, টানা অবরোধের সময় থেকে বাজার ও জনসমাগম বেশি হয়—এমন এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়ও এ নিয়ে আলোচনা হয়। এরপর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সিসি ক্যামেরা বসানো শুরু হয়। এ বছরের জানুয়ারিতে প্রথম ক্যামেরা বসানো হয় উপজেলা প্রশাসনিক ভবন ও ভূমি কার্যালয়ে। এরপর চিঠি দিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানদের সিসি ক্যামেরা বসানোর জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, সিসি ক্যামেরা বসানোর সুফল পাওয়া যাচ্ছে। অপরাধ কমে গেছে। পর্যায়ক্রমে সব হাট-বাজারে ক্যামেরা বাসানো হবে।