অ্যাকাউন্ট্যান্সিতে নৈতিকতা ও দায়বদ্ধতা

গত ২৫ অক্টোবর ২০১৪, প্রথম আলোর আয়োজনে ‘অ্যাকাউন্ট্যান্সিতে নৈতিকতা ও দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত আলোচকদের বক্তব্য সংক্ষিপ্ত আকারে এই ক্রোড়পত্রে প্রকাশিত হলো।
সহযোগিতায়: এসিসিএ (দ্য অ্যাসোসিয়েশন অব চার্টার্ড সার্টিফাইড অ্যাকাউন্ট্যান্টস)

.
.

আলোচনায় সুপারিশ
 রাষ্ট্রীয় কাঠামো, প্রতিষ্ঠানের মালিক, অংশীদারগণ ও হিসাব পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেশের হিসাবসংক্রান্ত সার্বিক নৈতিকতার পরিবেশ উন্নয়নে কাজ করতে হবে
 একজন নীতি-নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ কখনো মালিকের অনিয়মকে মেনে নেবে না। এ জন্য মানবসম্পদ অত্যন্ত জরুরি
 আমাদের একটি আর্থিক প্রতিবেদন আইন ও কাউন্সিল অত্যন্ত প্রয়োজন।
 কোম্পানি আইনে জরিমানা ও জেলের ব্যবস্থা আছে। কিন্তু এর প্রয়োগ হয় না। দায়বদ্ধতা থেকেই জনস্বার্থের বিষয়গুলোকে সবার সামনে আনতে হবে।

আলোচনা
আব্দুল কাইয়ুম: অ্যাকাউন্ট্যান্সিতে নৈতিকতা যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে হিসাবরক্ষকদের নৈতিক দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা রয়েছে। দেশের শেয়ারহোল্ডার, বিনিয়োগকারী, অংশীদারসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষ তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঠিক আর্থিক অবস্থা জানতে চায়। কারণ, ব্যবসার সঠিক আর্থিক অবস্থা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোনো কোম্পানি বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম নির্ভর করে তার প্রকৃত আর্থিক তথ্যের ওপর।

সৎ ও নৈতিক হিসাররক্ষণ যেকোনো ব্যবসা ও দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তোলে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবসাসংক্রান্ত তথ্যে ভুল ও অনৈতিকতা বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করে। দেশে বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়। আলোচনায় এসব বিষয় আসবে। এখন আলোচনা করবেন তোফায়েল আহমেদ।

তোফায়েল আহমেদ: চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং ও কস্ট অ্যাকাউিন্টং আমাদের মন্ত্রণালয়ের বিষয়। আশা করি, সবাই নৈতিকতা ও দায়িত্বের সঙ্গে কাজটি করবেন। আজ স্বাধীনতার ৪৩ বছর পর আমরা অনেক কিছু অর্জন করেছি। আমি গ্রামের ছেলে। গ্রামের পরিবর্তন দেখলে অবাক হতে হয়। ভাবি কোথায় ছিলাম, কোথায় এলাম। একসময় গ্রামে ৭৫ শতাংশ কুঁড়েঘর ছিল। এখন সে দৃশ্য খুঁজে পাওয়া যাবে না। দেশে অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হয়েছে। হিসাবরক্ষণের দায়দায়িত্ব বেড়েছে। বিশ্বব্যাংক ও এডিবি বলেছে, এবার আমাদের প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ২ থেকে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। দশ বছর ধরে আমাদের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের ওপরে। আমাদের দারিদ্র্য কমেছে। সহস্রাব্দ লক্ষ্যমাত্রার অনেকগুলোই আমরা সময়ের আগে পূরণ করেছি। তৈরি পোশাকশিল্প আমাদের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। ব্যবসা–বাণিজ্যের সঠিক হিসাব রক্ষণের প্রয়োজন আছে।
১৯৭২ সালে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ৩ দশমিক ৪৮ মিলিয়ন ডলার। আমাদের কোনো রিজার্ভ ছিল না। আজকে সেটা ৩০ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার। ইউরোপীয় ইউনিয়ন জিএসপি দেওয়ার কথা বলেছে। এটাও আমাদের অর্জন। ২০২১ সালে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হবে। সে লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে নীতি-নৈতিকতা প্রয়োজন।

মহুয়া রশীদ: বাংলাদেশে এসিসিএর প্রতিনিধিত্ব করছি। এসিসিএ একটি বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠন। এ প্রতিষ্ঠান অ্যাকাউন্ট্যান্সি শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে বিশ্বে মানবসম্পদের উন্নয়ন করে। আজ থেকে ১১০ বছর আগে ১৯০৪ সালে এসিসিএর যাত্রা শুরু। বিশ্বের ৯১টি দেশে এর কার্যক্রম রয়েছে। সারা বিশ্বে এসিসিএর ছয় লাখের বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। আইফ্যাক (ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব অ্যাকাউন্ট্যান্টস) বিশ্বের বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট্যান্সি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণ করে। এসিসিএ আইফ্যাকের সদস্য। এসিসিএ সব সময় জনস্বার্থে কাজ করে। এর মাধ্যমে দেশে অর্থনীতির উন্নয়ন ঘটে। নৈতিকতা আমাদের পাঠক্রমের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিশ্বের সব এসিসিএ শিক্ষার্থীকে নৈতিকতা পড়তে হয়। বিভিন্ন কারণে জনসাধারণের অ্যাকাউন্ট্যান্সির প্রতি আস্থা নষ্ট হয়েছে। আমাদের একটা জরিপে ৫৫ শতাংশ মানুষ হিসাবের প্রতি আস্থাহীনতার কথা বলেছে। এসিসিএ মানুষের আস্থা অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে। এসিসিএ মনে করে, বিনিয়োগ ও অর্থনীতিতে আস্থাকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেশাদার অ্যাকাউন্ট্যান্টদের কোনো বিকল্প নেই।

মো. কাউসার আলম: একটি প্রতিষ্ঠানে অর্থ পরিচালক বা প্রধান হিসাব কর্মকর্তা নৈতিকতা ও দায়বদ্ধতা অনুশীলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। তিনি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও পরিচালনা পর্ষদের খুব কাছাকাছি থাকেন। তিনি অর্থসংক্রান্ত যাবতীয় দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর দায়িত্বের গুরুত্ব ও পরিধি প্রতিষ্ঠানজুড়ে। পেশাদার হিসাব কর্মকর্তারা তাঁদের সততা, জ্ঞান, দক্ষতা, নৈতিকতা ও দায়বদ্ধতা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। আমাদের দেশে কয়েকটি হিসাব পেশা নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এরা সবাই আইফ্যাক নামের একটি আন্তর্জাতিক হিসাব পেশা সংগঠনের সদস্য। আইফ্যাকের নিজস্ব নৈতিকতা কোড আছে। এর আলোকে আমাদের দেশের হিসাব পেশার প্রতিষ্ঠানগুলো নৈতিকতা কোড গঠন করেছে।
তাত্ত্বিকভাবে আমাদের দেশের হিসাব পেশার মানুষের মধ্যে নীতি–নৈতিকতার অভাব থাকার কথা নয়। পার্থক্য হয় প্রয়োগের সময়। একটি পরিবারে কর্তার আদর্শ ও নৈতিকতার মান সদস্যদের মধ্যে প্রতিফলিত হয়। একইভাবে রাষ্ট্রের নৈতিক মানের ওপর নির্ভর করে অন্য ক্ষেত্রে নৈতিকতার মান। আমি মনে করি, রাষ্ট্রীয় কাঠামো, প্রতিষ্ঠানের মালিক, অংশীদারগণ ও হিসাব পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেশের হিসাবসংক্রান্ত সার্বিক নৈতিকতার পরিবেশ উন্নয়নে কাজ করতে হবে। এখানে সরকারের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ব্যবসার মালিক ও অংশীদারদের নৈতিকভাবে ব্যবসা পরিচালনার মানসিকতা দেখাতে হবে। নৈতিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে গেলে অনেক সময় ব্যয় বেড়ে যায়। তবে টেকসই ব্যবসার জন্য এ ব্যয় মেনে নিতে হবে।

শওকত হোসেন: পৃথিবীর সৃষ্টি ও সভ্যতার সঙ্গে হিসাব শুরু হয়েছে। একসময় মানুষের সাধারণ আয়-ব্যয়ের হিসাবই আজকের আধুনিক অ্যাকাউন্ট্যান্সি। আমরা সবাই আইফ্যাকের সদস্য। অ্যাকাউন্ট্যান্সিতে আইফ্যাকের নৈতিকতা ও দায়বদ্ধতার বিষয়টি আমরা মেনে চলি। দক্ষিণ এশিয়ার সবগুলো দেশে একই ধরনের নৈতিকতা ও দায়বদ্ধতার বিষয়টি চালু করার বিষয়ে চিন্তা হচ্ছে। দেশে যেসব কোম্পানি অনিয়ম করছে আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। কোনো কোনো কোম্পানিকে দুই থেকে তিন বছর সাসপেন্ড কেরছি। ৫০ হাজার থেকে দুই-তিন লাখ টাকা জরিমানা করছি। আমাদের ওয়েবসাইটে গেলে এসব বিষয়ে জানতে পারবেন।
কারও কারও গোড়া থেকেই নৈতিক স্খলন থাকে। তাদের ঠিক করা কিছুটা কঠিন। কোনো না কোনোভাবে এরা দুই নম্বরি পথ বের করে ফেলে। যারা আমাদের নিয়ম অনুসারে হিসাব রাখে তাদের পুরস্কৃত করি। আইফ্যাকের নিয়ম অনুসারে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও দায়বদ্ধতার ওপর গুরুত্বসহকারে শিক্ষা দেওয়া হয়। দেশে ৩২৫টি পাবলিক লি. কোম্পানি আছে। ঢাকা ও চিটাগাং স্টক এক্সচেঞ্জের বাইরেও অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আছে। তাদের দেখার কেউ নেই। আয়কর বিভাগ থেকে তাদের অনিয়মের বিষয়ে আমাদের কাছে তথ্য আসে। আমরা তখন ব্যবস্থা নিই। ব্যবসায়ে নৈতিকতা থাকলে কর্মচারী ও হিসাববিদেরা শান্তিতে ঘুমাতে পারেন। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান তিনটি ব্যালেন্স শিট করে। একটি প্রকৃত, একটি লাভজনক ও একটি লোকসানি ব্যালেন্স শিট। প্রকৃতটা নিজের জন্য, লাভেরটা ব্যাংকের জন্য, লোকসানেরটা আয়কর বিভাগের জন্য। এমন ব্যবস্থা আমরা দেখে থাকি। তবে এসব বিষয়ে এখন ব্যবস্থা নিচ্ছি। ভবিষ্যতে হিসাবব্যবস্থায় আরও উন্নয়ন ঘটবে বলে আশা করি।

হায়দার আহমেদ খান: আমরা চার হাজার মধ্যম শ্রেণির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করি। আমাদের চার হাজার সদস্য আছে। প্রতিবছর সদস্যপদ নবায়ন করি। নতুন সদস্যও নিয়ে থাকি। ২৪টি স্ট্যান্ডিং কমিটির মাধ্যমে ভোক্তা অধিকার থেকে শুরু করে সব ধরনের তদারক করা হয়। সরকারের নিয়ম-নীতি সম্পূর্ণরূপে পরিপালন করলে আমরা সদস্যপদ দিই। আমরা অনুভব করেছি, সমাজে ব্যবসায়ীদের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। আমরা আমাদের সদস্যদের বিভিন্ন সভা ও কর্মশালার মাধ্যমে ব্যবসায়ে নৈতিকতার বিষয়ে আলোচনা করছি। ব্যবসায়ীদের অনিয়মের একটা প্রধান কারণ কর। কর ফাঁকি দেওয়ার জন্যই তিনটি ব্যালেন্স শিট হয়। মনে করি, একজন ব্যবসায়ীর আয় দশ হাজার টাকা, ব্যয় ছয় হাজার টাকা, লাভ চার হাজার টাকা।
আয়কর কর্মকর্তা বলবে তোমার লাভ ১২ হাজার টাকা, খরচ পাঁচ হাজার টাকা, কর দিতে হবে সাত হাজার টাকার ওপর। এই আচরণে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেন। এখন যদি কারও আয় হয় ১৫ হাজার টাকা, সে শুরুতেই দেখাবে ১০ হাজার টাকা। কারও ব্যয় হয় আট হাজার টাকা, সে হিসাবে দেখাবে ১২ হাজার টাকা। এই টাকাটা বেআইনি না। এটা অপ্রদর্শিত টাকা। আয়কর বিভাগের কিছু কর্মকর্তা–কর্মচারীর অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের জন্য ব্যবসায়ীরা এমন করেন। আয়কর বিভাগকে এদিকে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে। আয়কর দেওয়ার বিষয়টি সহজ এবং স্বচ্ছ না হলে মানুষ কখনো আয়কর দেওয়ার ক্ষেত্রে উৎসাহী হবে না। কেবল হিসাবের ক্ষেত্রে নীতি-নৈতিকতা ঠিক করতে গেলে এটা টেকসই হবে না। অন্যান্য সব ক্ষেত্রে নীতি-নৈতিকতা আনতে হবে। মানবসম্পদের উন্নয়ন খুব জরুরি। একজন নীতি-নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ কখনো মালিকের অনিয়মকে মেনে নেবে না। এ জন্য মানবসম্পদ অত্যন্ত জরুরি

মোহাম্মদ আবদুল মজিদ: আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) বৃদ্ধিসহ সব ক্ষেত্রে উন্নয়ন সমৃদ্ধির জন্য হিসাবের নৈতিকতা ও দায়বদ্ধতা জরুরি। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ হতে হলে নৈতিকতা ও দায়বদ্ধতাকে গুরুত্ব দিতেই হবে। আমাদের কাজকর্মের মধ্যে একধরনের বিশ্বাস ও আস্থার প্রতিফলন থাকতে হবে। গণতন্ত্র একটা আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়। আমাদের একটি আর্থিক প্রতিবেদন আইন ও কাউন্সিল অত্যন্ত প্রয়োজন। ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় এটা পাস হয়েছিল।
২০০৯ সালে এ আইন বাদ দেওয়া হয়। এখন আবার এটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আইনটি পাস হলে যেন ঠিকভাবে এটি কাজ করে, সেটা আমরা আশা করি। আরেকটি বিষয় দেখতে হবে, সেটা হলো প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থা। যেমন আইসিএবি (ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস) ও আইসিএমএসহ (ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস) যেসব প্রতিষ্ঠান অ্যাকাউন্ট্যান্ট ও অডিটর তৈরি করবে তাদের সক্ষমতা কতটুকু। এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। নব্বইয়ের দশকে কয়টি কোম্পানি নিবন্ধিত হতো? আর এখন কত হয়? এসব কোম্পানির হিসাব প্রতিবেদন ঠিকভাবে দেখার মতো সক্ষমতা ও লোকবল সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের আছে কি? ব্যাংকের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। তাই হিসাব প্রতিবেদন যাঁরা ব্যবহার করবেন তাঁদের দক্ষতা ও জনবল না থাকলে হিসাবের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা কঠিন হবে। আমি এনবিআরে থাকার সময় দুটো নামকরা অডিট ফার্মকে জেলে দিয়েছিলাম। তারা একটি ব্যাংকে আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত ভালো দেখিয়ে হিসাব প্রতিবেদন দিয়েছিল। কিন্তু এনবিআরে দিয়েছিল অত্যন্ত দুর্বল করে। সব বিষয় সামগ্রিকতায় দেখতে হবে। বিচ্ছিন্নভাবে কাউকে ভালো হতে বললে সে ভালো হবে না। আমাদের সামাজিক ব্যবস্থায় নৈতিকতা ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

স্বপন কুমার বালা: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের অধীনে ৩২৫টি নিবন্ধিত কোম্পানি আছে। ২০১০ সালে শেয়ার মার্কেটে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে। আমরা ডিমিউচুয়ালাইজেশনের সিদ্ধান্ত নিই এবং সেটা বাস্তবায়ন করি। এখন শেয়ারহোল্ডারদের আস্থা ফিরে আসতে শুরু করেছে। এখন বাজার মোটামুটি একটা ভালো অবস্থানে আছে। শেয়ারহোল্ডাররা কোম্পানির ত্রৈমাসিক, অর্ধবার্ষিক ও বার্ষিক হিসাব প্রতিবেদনের ভিত্তিতে লেনদেন করে থাকে। যদিও সব ক্ষেত্রে এর সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না। কোনো তথ্য সঠিক বা ভুল তার ওপর নৈতিকতা নির্ভর করে। আমরা শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মূল্যবোধসহ হিসাবের সব প্রক্রিয়া শিখিয়ে দিই।
নৈতিকতার সঙ্গে স্বাধীনতার বিষয়টি জড়িত। স্বাধীনভাবে কাজের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের চাপ থাকে। হিসাবের তিনটি প্রধান কাজ হলো হিসাব, কর ও নিরীক্ষা। কার্যক্ষেত্রে তিনটি বিষয় যাতে ভালোভাবে প্রয়োগ করতে পারে সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের শেখানো হয়। কোম্পানিগুলো হিসাব তৈরি করে আমাদের কাছে জমা দেয়। এখন নিয়ম করা হয়েছে হিসাব তাদের ওয়েবসাইটে এবং পত্রিকায় প্রকাশ করতে হবে। এখানকার পরিচালকেরা খুব স্বাধীন। যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে তাঁরা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এসইসি (সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন) অনিয়মকারী কোম্পানির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। এসইসি তার নিজস্ব অর্থ ব্যয় করে অডিট করছে। শেয়ারহোল্ডাররা ব্যবস্থাপনা থেকে অনেক দূরে থাকে। শেয়ারহোল্ডারদের নিরীক্ষকের ওপর নির্ভর করতে হয়। হিসাব ঠিকমতো দিচ্ছে কি না, হিসাবের বিষয়বস্তু ঠিক আছে কি না—এসইসি এখন সবই তদারক করে।
কোম্পানি আইনে জরিমানা ও জেলের ব্যবস্থা আছে। কিন্তু এর প্রয়োগ হয়নি। দায়বদ্ধতা থেকেই জনস্বার্থের বিষয়গুলোকে সবার সামনে আনতে হবে। অর্থাৎ হিসাবের যাবতীয় বিষয়গুলো পত্রিকা ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে শেয়ারহোল্ডারদের জানাতে হবে।

ইকবাল আহমেদ: আমরা যে মানবসম্পদ তৈরি করতে চাচ্ছি তারা কৌশলী হবে, নৈতিকতাসম্পন্ন হবে ও দায়বদ্ধতা অনুভব করবে। আমাদের তথ্য কতটুকু মানসম্পন্ন সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মানসম্পন্ন তথ্যের ওপর নির্ভর করে মানসম্পন্ন হিসাব। যিনি ব্যালেন্স শিট তৈরি করেন তিনি মালিক নন, তিনি হিসাব কর্মকর্তা। মালিক ও কর্মকর্তার মধ্যে আস্থা-বিশ্বাসের সম্পর্কের বিষয়টি খুব জরুরি। মালিক সব সময় চান বেশি মুনাফা করতে। আবার আয়কর বিভাগে গেলে মুনাফা অনেক কমে যায়। অর্থাৎ সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাসের বড় রকমের সংকট রয়েছে। সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যকার এ সংকট দূর করতে হবে। তাদের মধ্যে অংশীদারি আরও জোরদার করতে হবে। এমন কিছু কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ে যারা বছরের পর বছর লোকসান দিচ্ছে বা বন্ধ হয়ে আছে। এটা কীভাবে সম্ভব, আমি নিজেও বুঝি না। অর্থাৎ যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব কোম্পানির তথ্য আমাদের কাছে আসে, সেটা সঠিক না। তথ্য আসার প্রক্রিয়ার মধ্যে ষড়যন্ত্র আছে। এ ষড়যন্ত্র বা ভুল কারা ধরবেন? গণমাধ্যম? গণমাধ্যমের কর্মীরা কতটুকু কৌশলী? তাঁরা একটি ব্যালেন্স শিটের কোথায় ভুল ধরবেন? কীভাবে এসইসিকে চ্যালেঞ্জ করবেন?
এখানে আবার তথ্য আইনের কিছু বিষয় চলে আসবে। হিসাবব্যবস্থার পদ্ধতির বিপর্যয়ের ফলে আমেরিকার অনেক কোম্পানি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সেখান থেকেই কোম্পানির সুশাসন ও সিএসআরের (কোম্পানির সামাজিক দায়িত্ব) বিষয়টি জোরালোভাবে সামনে এসেছে।

মোহাম্মদ নূরুল আমিন: নিরীক্ষকেরা নমুনা পরীক্ষার মতো কিছু করেন। সব ক্ষেত্রে ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করেন না। অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষকেরা কাজটি ঠিকমতো করছেন কি না সেটা দেখার দায়বদ্ধতা নিরীক্ষকদের থাকা উচিত। তবে ব্যাংকে কখনো দুটি ব্যালেন্স শিট হয় না। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম মেনে আমাদের ব্যালেন্স শিট করতে হয়, যে নিয়মে দুটো ব্যালেন্স শিট করার কোনো সুযোগ নেই। এসইসি এমন একটা নির্দেশ দিতে পারে তার নিবন্ধিত কোম্পানিগুলোকে। তাহলে আইপিও ও অন্যান্য জটিলতা কমে যাবে বলে মনে হয়। ব্যাংকের স্টেকহোল্ডার দেশে-বিদেশে আছে। রেগুলেটর বেশি। বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ আমাদের ব্যালেন্স শিট ব্যবহার করে। আমাদের কাজের স্বচ্ছতা-দায়বদ্ধতা ভালোভাবে দেখতে হয়। বোর্ডগুলো সব সময় চায় কীভাবে বেশি সুবিধা শেয়ারহোল্ডারদের দেওয়া যায়। নিরীক্ষকেরা যদি ব্যাংকের কোনো কাজে অনিয়ম দেখেন সেটা তাঁদের প্রতিবেদনে প্রকাশ করবেন, এ স্বাধীনতা তো তাঁদের আছে। আমরা কিছু বললে আপনি মানবেন কেন? আমরা যারা নীতি-নৈতিকতা চাই সবাই মিলে একটি আর্থিক আইন করতে পারলে ভালো হয়। যেভাবে হোক বিশ্বাস ও আস্থাহীনতা কাটিয়ে উঠতে হবে। আমরা হল-মার্ক, বেসিক ব্যাংকের মতো ঘটনা আর দেখতে চাই না। এ থেকে যেন সবাই শিক্ষা নিই।

মমতাজউদ্দিন আহমেদ: ব্যবসায়ে নৈতিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন ডাক্তার নৈতিকতায় ফেল করলে একটা পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ব্যবসায়ে নৈতিকতা না থাকলে পুরো অর্থনীতি বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে। দুবার শেয়ার মার্কেটে বিপর্যয় ঘটেছে। দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রত্যেকে প্রত্যেকের জায়গা থেকে নৈতিকতা মেনে চলতে হবে। সততা অর্থ দিয়ে কেনা যায় না।
শিক্ষিত মানুষ অসৎ হলে সে ভয়ানক ক্ষতি করতে পরে। যা একজন কৃষক বা সাধারণ মানুষ কখনোই করতে পারবে না। একটা নৈতিক সমাজ নৈতিক হিসাব আশা করতে পারে। বাংলাদেশে ব্যবসা শিক্ষায় পরিবর্তন এসেছে। আগামী বছর যারা এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষা দেবে তারা অ্যাকাউন্টিং, ফাইন্যান্স, মার্কেটিং ইত্যাদি বিষয়ে পরীক্ষা দেবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব বিশ্ববিদ্যালয়ে নৈতিকতা ও সুশাসন বিষয়ে পাঠক্রম আছে। এটা সব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয়। নৈতিকতা আমরা শেখাই। কিন্তু পরিবার থেকে যদি নৈতিকতা না শেখে তাহলে নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হওয়া তার পক্ষে কঠিন হয়। দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান সমান না। ১৪ লাখ ৫০ হাজার শিক্ষার্থী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। এখানে ব্যবসা শাখায় সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী। এসব শিক্ষার্থী কার্যক্ষেত্রে কতটা সফল হচ্ছে, এ থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান বোঝা যায়। মধ্যম আয়ের দেশ হতে হলে বিদেশি বিনিয়োগ খুব প্রয়োজন। কিন্তু বিনিয়োগকারীরা বলে আমাদের হিসাবপদ্ধতি ভালো না। স্বচ্ছতার অভাব, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন কারণ রয়েছে। এসব না থাকলে ২০২১ সাল কেন, তার আগেই আমাদের দেশ মধ্যম আয়ের দেশ হতো।

মোহাম্মদ সেলিম: নৈতিকতার প্রথম পাঠ হয় পরিবার থেকে। তারপর প্রাথমিক, উচ্চ মাধ্যমিক এসব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একজন মানুষের মধ্যে নৈতিকতা তৈরি হয়। অর্থাৎ প্রাথমিক পর্যায়গুলোতে যদি নৈতিকতার ঘাটতি থাকে তাহলে হঠাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে বা পরবর্তী পর্যায়গুলো থেকে মূল্যবোধ অর্জন শক্ত হয়। নৈতিকতার ঘাটতি কেবল আমাদের দেশেই না, অন্যান্য দেশেও এ সমস্যা রয়েছে। ২০০২ সালে আমেরিকার শেয়ারবাজার ধসের পেছনেও অডিটরদের ভূমিকা ছিল। এ ঘটনায় প্রায় দেড় লাখ অডিটরের চাকরি চলে যায়। ১৯৯৬ সালে শেয়ারবাজার ধসের পর প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, স্বতন্ত্র অ্যাকাউন্টিং ও অডিটিং স্ট্যান্ডার্ড বোর্ড করতে হবে। ২০০২ সালে আমেরিকার শেয়ারবাজার ধসের পর আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শাহেদ আলম: আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে একটা কথা বলা হয়, আমাদের সবকিছু আছে। কিন্তু যদি নৈতিকতা না থাকে তাহলে আসলে কিছুই নেই। কেবল নৈতিকতা থাকলেই হবে না। আমাদের নৈতিকতা হতে হবে আপসহীন। আমাদের কর্মীদের জন্য একটা হটলাইন আছে। যেকোনো সময় যে কেউ তার নাম না বলেও যেকোনো প্রকার অনৈতিকতার বিরুদ্ধে কথা বলতে পারে। ১০টি দেশে আমাদের কর্মী আছে। তারাও যেকোনো অনৈতিকতার বিরুদ্ধে কথা বলতে পারে। আমরা এ ক্ষেত্রে আপসহীন। দেশের ভালো অডিট ফার্মের মাধ্যমে আমাদের হিসার নিরীক্ষা হয়। সেখানে কোনো অনিয়ম পেলে আমাদের প্রতিষ্ঠান সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়। স্থানীয় নিরীক্ষার পরও বিশ্বব্যাপী আমাদের প্রতিষ্ঠানে নিরীক্ষা হয়। একটা মানসম্পন্ন নৈতিকতার মধ্য দিয়ে আমাদের কাজ করতে হয়। আমাদের প্রতিটি কর্মীকে নৈতিকতা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করতে হয়। তাকে জানতে হয় যে সে সঠিক তথ্যটি দিচ্ছে। প্রতিবছর আমরা নিজেরা আমাদের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে দেখি কোথাও কোনো অনিয়ম বা ভুল আছে কি না। কোনো অনিয়ম পেলে সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

আরিফুর রহমান: হিসাববিদদের অনৈতিক আচরণের সবচেয়ে বেশি শিকার হয় ক্রেডিট রেটিং কোম্পানি। কারণ আমাদের জাজমেন্ট দিতে হয় প্রকাশিত হিসাবের ওপর। আমরা কখনো কখনো একই অডিটরের তিনটি হিসাব প্রতিবেদন একই বছর পেয়ে যাই। যারা এসব প্রতিবেদন দেয় তারা অনেক সময় জানে না তারা কী দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যায় পড়তে হয়। এটা সমগ্র অর্থনীতির জন্যই ক্ষতিকর। একটা ভুল প্রতিবেদনের জন্য অনেকেই ক্ষতির শিকার হতে পারেন। ২০০২ সালে আমেরিকায় শেয়ারবাজার বিপর্যয়ের ঘটনায় ওয়ার্ল্ডকমকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়েছিল। আরেকটি বিষয় হলো অনৈতিকতার জন্য আমাদের দেশে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয় না। যে কারণে অনৈতিক আচরণ চলতে থাকে। নৈতিকতার ব্যায় অনেক ক্ষেেত্র এত–বেশি হয় যে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণরূপে নৈতিকতার মান ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও রক্ষা করতে পারে না। তাই নীতিনির্ধারণী মহলকে এসব বিষয়ে ভাবতে হবে।

নাসরিন সুলতানা লুনা: নৈতিকতা মেনে চলার মতো মানবসম্পদ তৈরি করছি কি না, আজ সেটি একটি প্রশ্ন। জনস্বার্থ সংরক্ষণে এসিসিএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এটি এসিসিএর একটি অন্যতম মূল্যবোধ। আমরা এসিসিএ তিনটি বিষয় মেনে চলি যেমন: পরীক্ষা, অভিজ্ঞতা ও নৈতিকতা। এ তিনটির সমন্বয়ে এসিসিএর ডিগ্রি অর্জন করতে হয়। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এক বছর পরপর আমরা পাঠ্যক্রম পরিবর্তন করি। বইগুলো নতুন করে প্রকাশ করি। এসিসিএ সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তাঁদের সদস্যপদ প্রত্যাহার করা হয়। কীভাবে ব্যবসা ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছ প্রতিবেদন তৈরি করে সুশাসন আনা যায় এসিসিএতে সেটা শেখানো হয়। এসিসিএ সদস্যগণ প্রতিবেদনে কোনো রকম অস্বচ্ছতার সঙ্গে আপস করেন না। তারা করপোরেট গভর্ন্যান্সকে গুরুত্ব দেন। আমাদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ ছিল, আছে; এটাকে আরও বাড়িয়ে নিতে হবে।

তোফায়েল আহমেদ: আপনারা সবাই ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (আর্থিক প্রতিবেদন কাউন্সিল) কথা বলেছেন। এটা করতে পারলে হিসাবব্যবস্থায় একটা পরিবর্তন আসবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংকিং বিভাগ হয়তো এটা করবে। সে সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তাদের কথা হবে। এ ক্ষেত্রে সবাই আলোচনা করে নিশ্চয়ই একটি ভালো ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল করার ব্যবস্থা হবে।
ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল করার জন্য আমার মন্ত্রণালয়ের দিক থেকে সব সহযোগিতা থাকবে। তবে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ও কস্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টদের মধ্যে কিছুটা মতপার্থক্য আছে। আলোচনার মাধ্যমে এটা ঠিক হবে। দেশের অনেক অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই এগিয়ে যাওয়ায় দেশের সব মানুষের অবদান রয়েছে। অমর্ত্য সেন বলেন, বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রে ভারত থেকেও এগিয়ে আছে। আপনারা কিছু পরামর্শ দিয়েছেন, আমরা সেগুলো বিবেচনা করব।

আব্দুল কাইয়ুম: হিসাবব্যবস্থা স্বচ্ছ না হলে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে। বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হলে দেশের প্রবৃদ্ধি হ্রাস পাবে। আমাদের হিসাবব্যবস্থার দুর্বলতা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে। সরকারের নীতিনির্ধারণী মহল এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে আশা করি। প্রথম আলোর পক্ষ থেকে সবাইকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

যাঁরা অংশ নিলেন
তোফায়েল আহমেদ : মন্ত্রী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
মহুয়া রশীদ : কান্ট্রি ম্যানেজার, এসিসিএ বাংলাদেশ
স্বপন কুমার বালা : ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ
শওকাত হোসেন : এফসিএ ও সভাপতি, আইসিএবি
মোহাম্মদ আবদুল মজিদ : সাবেক চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড
মমতাজউদ্দিন আহমেদ : চেয়ারম্যান, হিসাববিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ইকবাল আহমেদ : পরিচালক, আইবিএ
মোহাম্মদ নূরুল আমিন : ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মেঘনা ব্যাংক লিমিটেড
হায়দার আহমেদ খান : পরিচালক, বোর্ড অব ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি
শাহেদ আলম : নির্বাহী সহসভাপতি, রবি
মোহাম্মদ সেলিম : জেনারেল ম্যানেজার, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড
আরিফুর রহমান : চিফ রেটিং অফিসার, ইমারজিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড, এসিসিএ বাংলাদেশ
মো. কাউসার আলম : এফসিএস, এফসিএমএ, এসিসিএ, গ্রুপ চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার, রহিম আফরোজ গ্রুপ
নাসরিন সুলতানা লুনা : হেড অব রিলেশনস, এসিসিএ বাংলাদেশ
সঞ্চালক
আব্দুল কাইয়ুম : সহযোগী সম্পাদক, প্রথম আলো