আইএলওর চাপ মেনে নিল বাংলাদেশ
>
- ৫১ শতাংশের মতামতে ধর্মঘট ডাকা যাবে, আগে ছিল দুই তৃতীয়াংশ
- ট্রেড ইউনিয়ন করতে ২০ শতাংশের সম্মতি থাকলেই চলবে, আগে ছিল ৩০ শতাংশ
- বেআইনি ধর্মঘটের শাস্তি কমানো হয়েছে
- শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ দ্বিগুণ
- শর্ত সাপেক্ষে শিশুশ্রমের বিধান বিলুপ্ত
- ১৮০ দিনে শ্রম মামলা নিষ্পত্তি বাধ্যতামূলক
- পাহারাদার, টহলদার, নিরাপত্তা স্টাফ, গোপন সহকারীরা ট্রেড ইউনিয়ন করতে পারবে

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের চাপের মুখে সরকার ট্রেড ইউনিয়ন গঠন, শ্রমিক ধর্মঘট আহ্বান, শিশুশ্রম পুরোপুরি বন্ধ এবং শ্রমিকদের অসদাচরণের শাস্তি কমানোসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০০৬ সালের শ্রম আইন সংশোধন করে এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
সংশোধিত খসড়ায় ট্রেড ইউনিয়ন করার জন্য ন্যূনতম সদস্যের সম্মতি ৩০ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। কারখানায় ধর্মঘট ডাকার অধিকার দুই-তৃতীয়াংশ থেকে কমিয়ে করা হয়েছে ৫১ শতাংশ। দুর্ঘটনায় নিহত এবং স্থায়ীভাবে অক্ষম শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ করা হয়েছে দ্বিগুণ।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে জানান, ২০১৭ সালের জুন অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনে শ্রমিকদের অধিকার বিষয়ে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বাংলাদেশ, তা এর মাধ্যমে পূরণ হবে। তাঁর মতে, এই সংশোধনীর ফলে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত ও শ্রমিকের অধিকার সুরক্ষা হবে, যা উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়তা করবে।
আইনের খসড়াটি অনুমোদনের জন্য আজ সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করতে তালিকায় রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
২০১৩ সালে শ্রম আইন সংশোধন করা হলেও আইএলও, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আন্তর্জাতিক ক্রেতা জোট এবং স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনগুলো আবার আইনটি সংশোধনের দাবি তোলে। সরকার আইএলওর পর্যবেক্ষণ আমলে নিয়ে মালিক, শ্রমিক ও সরকারি প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত ত্রিপক্ষীয় কমিটি করে। ওই কমিটি ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০১৮’-এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে।