ঢাকার আশুলিয়ায় চলন্ত বাসে দল বেঁধে তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলায় আরও এক আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বুধবার বিকেলে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ওই আসামি জবানবন্দি দেন।
জবানবন্দি দেওয়া আসামির নাম মনোয়ার হোসেন (২৪)। তিনি বাসচালকের সহকারী। এ নিয়ে এই মামলায় ছয় আসামির দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আশুলিয়া-থানা পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাতে আশুলিয়ায় একটি চলন্ত বাসে এক তরুণীকে দল বেঁধে ধর্ষণ করা হয়। তিনি নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া এলাকার একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক। এ ঘটনার পরপরই ছয়জনকে গ্রেপ্তার ও বাসটি জব্দ করে পুলিশ। এ ঘটনায় পরের দিন গত শনিবার দুপুরে ভুক্তভোগী তরুণী বাদী হয়ে ওই বাসের চালক, সহকারী, সুপারভাইজারসহ ছয়জনকে আসামি করে আশুলিয়া থানায় মামলা করেন।
আসামিরা হলেন বগুড়ার ধুনট উপজেলার খাটিয়ামারি গ্রামের বাসিন্দা ও বাসচালক মো. সুমন (২৪), নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার ধামঘর এলাকার বাসিন্দা ও বাসচালকের সহকারী মনোয়ার হোসেন (২৪), ঢাকার তুরাগ থানার গুলবাগ ইন্দ্রপুর এলাকার মো. আরিয়ান (১৮), কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার তারাগুনা গ্রামের মো. সাজু (২০), খাটিয়ামারি গ্রামের মো. সোহাগ (২৫) এবং বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার জিয়ানগর গ্রামের সাইফুল ইসলাম (৪০)। তাঁরা সবাই পরিবহনশ্রমিক।
পুলিশ ও আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ মামলায় গত শনিবার পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে ওই আসামিদের ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজিএম) আদালতে পাঠানো হয়। বাসচালক মো. সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলে বিচারক শাহজাদী তাহমিদা তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এ ছাড়া আদালত অন্য পাঁচ আসামিকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পরবর্তী সময়ে তিন দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার বিকেলে পাঁচ আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে ফের আবেদন করে পুলিশ তাঁদের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠায়। তাঁদের মধ্যে বাসচালকের সহকারী মনোয়ার হোসেন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে আদালতের বিচারক মনিরুজ্জামান শিকদার বাকি চার আসামির তিন দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জিয়াউল ইসলাম বলেন, এই মামলায় বাসের চালক ও সহকারী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের আদেশে বাকি চার আসামিকে তাঁদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।