আলু ও সয়াবিন খেতে পানি ক্ষতির মুখে কৃষক
অসময়ের বৃষ্টিতে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আলু খেতে পানি জমে আছে। এতে বিপাকে পড়েছেন কৃষক। মাটি ভেজা থাকায় আলু উঠাতে সমস্যা হচ্ছে। আবার খেত থেকে দ্রুত আলু না উঠালে সেগুলো নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এদিকে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার চরাঞ্চলে বৃষ্টির পানিতে প্রায় ৪০০ হেক্টর জমির সয়াবিনখেত ডুবে গেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে কচুয়া উপজেলায় চার হাজার হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ করা হয়েছে। খেত থেকে আলু তোলা শুরু করেছেন কৃষক। ইতিমধ্যে উপজেলার আবাদ করা জমির ৩০ শতাংশ আলু উঠানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত কচুয়ার অনেক স্থানে বৃষ্টি হয়েছে। সেখানকার খেতে বৃষ্টির পানি জমে আছে।
গত শনিবার উপজেলার বড় হায়াৎপুর, বাসাবাড়িয়া, রাজাপুর, তুলাতলী, সাহেদাপুর, চাঁদপুর, ডুমুরিয়া, কালোচোসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শত শত একর জমির আলু এখনো তোলা হয়নি। খেতে বৃষ্টির পানি জমে আছে। অনেক কৃষক আলু তোলার চেষ্টা করছেন। তবে ভেজা খেতে মজুরি খরচ বেড়ে গেছে। আলুও নষ্ট হওয়ার পথে।
রাজাপুর গ্রামের সুশান্ত সরকার এ বছর ৩০ একর জমিতে আলু চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আলু আবাদে খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ লাখ টাকা। বাম্পার ফলনে মোটা অঙ্কের মুনাফার আশায় ছিলাম। আলু তোলার সব প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার বৃষ্টিতে আলু খেতে পানি জমেছিল। সেই পানি না কমতেই দ্বিতীয় দফায় বৃষ্টি। আবার পানির নিচে চলে যায় আলুখেত। গত কয়েক দিনে থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় অধিকাংশ কৃষকের খেতে পানি জমেছে।’
কড়ইয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. মানিক মিয়া বলেন, ‘কৃষকেরা তাঁদের সমস্যার কথা জানিয়েছেন। আমি স্থানীয় সাংসদকে বিষয়টি জানিয়েছি, যাতে তাদের সরকারি সহায়তা দেওয়া যায়।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চাঁদপুরের উপপরিচালক আলী আহম্মদ বলেন, হঠাৎ বৃষ্টির কারণে কিছু আলুখেতে পানি আটকে গেছে। কৃষকদের দ্রুত আলু তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করা হচ্ছে।
রায়পুর উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় সয়াবিনের আবাদ হয়েছে ৭ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে। বিশেষ করে মেঘনা নদীতে জেগে ওঠা চরইন্দুরিয়া, চরজালিয়া, চরঘাসিয়া, চরকাছিয়া ও কানিবগারে সয়াবিন চাষ বেশি হয়েছে। গত শুক্র ও শনিবারের টানা বৃষ্টিতে উপকূলীয় চারটি ইউনিয়নের পাঁচটি চরের ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ৩৮০ হেক্টর জমির সয়াবিনখেতে পানি জমে আছে।
চর আবাবিল গ্রামের কৃষক আবুল কালাম বলেন, হঠাৎ দুই দিনের বৃষ্টিতে এখানকার সয়াবিনখেত তলিয়ে গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জহির আহাম্মেদ বলেন, পানি দীর্ঘ সময় জমে থাকলে সয়াবিনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ জন্য খেত থেকে দ্রুত পানি নিষ্কাশন করতে হবে। কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শের জন্য মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে।