মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় আসামি মোহাম্মদ আজিজ ওরফে আইয়াজ জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন। শুনানি নিয়ে বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন।
এর আগে ওই মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন চেয়ে বিফল হন আজিজ। এর বিরুদ্ধে ৩১ মে হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন তিনি, যা আজ শুনানির জন্য ওঠে।
আদালতে আজিজের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আমীরুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন, কে এম মাসুদ রুমি ও শাহীন আহমেদ খান।
পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘মেজর সিনহা হত্যা মামলায় আজিজ অভিযোগপত্রভুক্ত একজন আসামি। টেকনাফের বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো. লিয়াকত আলী ও টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশের সোর্স হিসেবে আজিজ কাজ করতেন। সিনহার গতিবিধি ওসি প্রদীপ ও লিয়াকতকে জানাতেন আজিজ। আজিজের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও আছে। অভিযোগপত্রে আজিজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে। অথচ জামিন আবেদন এ–সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট ধারাটি উল্লেখ করা হয়নি। বিষয়টি নজরে এলে আদালত জামিন না দিয়ে আজিজের আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন।’
আজিজের আইনজীবী আমীরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আদালত জামিন আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন। শিগগিরই জামিন আবেদন আবার হাইকোর্টে উপস্থাপন করা হবে।’
গত বছরের ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সিনহা মো. রাশেদ খান। পরের দিন এ ঘটনায় টেকনাফ থানায় হত্যা ও মাদক আইনে পৃথক মামলা হয়। গত বছরের ৫ আগস্ট সিনহার বোন কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলী, থানার এসআই নন্দদুলাল রক্ষিতসহ ৯ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় র্যাবকে। সিনহা হত্যার ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত উল্লেখ করে ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে ওই বছরের ১৩ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালত ২১ ডিসেম্বর অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।