আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

জামালপুরে মুক্তিযোদ্ধা আবদুল বারীর (৬০) হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। জামালপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে শহরের দয়াময়ী চত্বরে আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল হয়।

এতে জেলার সাত উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ নিহত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। এ ছাড়া শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে মুক্তিযোদ্ধারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে দয়াময়ী চত্বরে আসেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার শফিকুল ইসলাম, জামালপুর সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মো. হায়দার আলী, ইসলামপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মানিকুল ইসলাম, সাংবাদিক মোস্তফা বাবুল, গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক তানভীর আহম্মেদ, নিহত আবদুল বারীর ভাই কাউছার আহম্মেদ, বড় ছেলে শাহ মো. মিজানুর রহমান, জামাতা আলমগীর হোসেন প্রমুখ।

বক্তারা অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে ভিন্ন খাতে পরিচালিত করতে রেল বিভাগের তদন্ত কমিটির সদস্যরা তৎপর। ফলে রেল বিভাগের তদন্ত কমিটি বাতিল করে নতুন একটি কমিটির দাবিও জানানো হয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে জামালপুরসহ সারা দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দেওয়া হয়।

গত সোমবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বিনা টিকিটে ভ্রমণের অভিযোগে নিহত মুক্তিযোদ্ধার ছেলে মাজহারুল হককে জামালপুর রেলওয়ে পুলিশ আটক করে। খবর পেয়ে বাবা আবদুল বারী স্টেশনে যান। সেখানে পুলিশের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে আবদুল বারীকে একজন পুলিশ সদস্য ঘুষি মারলে তিনি মেঝেতে পড়ে গিয়ে মাথার পেছনে গুরুতর আঘাত পান। আহত অবস্থায় তাঁকে ময়মনসিংহের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় গত সোমবার জামালপুর জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গৌর চন্দ্র মজুমদার ও কনস্টেবল তপন বড়ুয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। গত মঙ্গলবার রাতে জামালপুর জিআরপি থানার ওসিসহ চারজনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন আবদুল বারীর বড় ছেলে শাহ মো. মিজানুর রহমান। পুলিশ গতকাল বুধবার জামালপুর রেলস্টেশনের টিকিট চেকার (টিসি) আনিসুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে।