আসেম সম্মেলনে যোগ দিতে মঙ্গোলিয়ায় প্রধানমন্ত্রী

একাদশ এশিয়া-ইউরোপ শীর্ষ সম্মেলনে (আসেম) যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিন দিনের সরকারি সফরে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটোরে পৌঁছেছেন। সেখানে তাঁকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। উলানবাটোরের শাংরি-লা হোটেলে দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলন শুরু হবে আজ শুক্রবার।
প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ভিভিআইপি ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় উলানবাটোরের চেঙ্গিস খান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। মঙ্গোলিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ফজলুল করিম এবং মঙ্গোলিয়ার প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ ও অ্যাম্বাসেডর এট লার্জ পি সাগান বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে ফুলের তোড়া দিয়ে অভ্যর্থনা জানান। পরে মঙ্গোলিয়ার সশস্ত্র বাহিনী প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।
প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দর থেকে আনুষ্ঠানিক মোটর শোভাযাত্রাসহকারে আসেম ভিলায় নিয়ে যাওয়া হয়। সফরকালে সেখানেই তিনি থাকবেন।
আজ প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। শেখ হাসিনা শীর্ষ সম্মেলনের প্রথম ও দ্বিতীয় পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে অংশগ্রহণ করবেন এবং ‘আসেম অংশীদারত্ব ও যোগাযোগ’ বিষয়ে বক্তব্য দেবেন।
প্রধানমন্ত্রী আজ সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ইউহান স্নাইডার-অম, রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সিনজো আবে, জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল ও ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাওলো জেন্তিলোনির সঙ্গে বৈঠক করবেন। তিনি অতিথিদের সম্মানে আসেম ভিলেজের মঙ্গোলজেনে মঙ্গোলিয়ার প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠেয় এক ভোজসভায়ও অংশ নেবেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাল শনিবার মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট থিন কিউ, ভারতের উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারী, ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি ডোনাল্ড টাস্ক ও ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি জঁ ক্লদ জাঙ্কারের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তিনি আসেম নেতাদের সঙ্গে অবকাশকালীন বৈঠকেও অংশ নেবেন।
আসেম হচ্ছে এশিয়া ও ইউরোপের ৫১টি দেশ ও দুটি আঞ্চলিক সংস্থার একটি ফোরাম। আরও বেশি ভারসাম্যপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈশ্বিক শৃঙ্খলা অর্জনের লক্ষ্যে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে প্রয়োজনীয় সব পর্যায়ে সম্পর্ক গভীর করতে এটি গড়ে তোলা হয়েছে।
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত প্রথম সম্মেলনে ১৯৯৬ সালের ১ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে এশিয়া-ইউরোপ ফোরাম প্রতিষ্ঠা করা হয়। বাংলাদেশ ২০১২ সালে এই ফোরামে যোগ দেয়।
এর আগে গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, তিন বাহিনীর প্রধান, কূটনৈতিক কোরের ডিন এবং উচ্চ পর্যায়ের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।
প্রধানমন্ত্রীর শোক: ইতালির ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় ব্যাপক হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইতালির প্রধানমন্ত্রী মাত্তিও রেঞ্জির কাছে পাঠানো এক শোকবার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, ‘ট্রেন দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত এবং বিপুলসংখ্যক লোক আহত হওয়ার খবরে আমি খুবই মর্মাহত।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ সরকার, জনগণ এবং তাঁর ব্যক্তিগত পক্ষÿথেকে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
ইতালির দক্ষিণাঞ্চলে গত মঙ্গলবার দুটি যাত্রীবাহী ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে ২৩ জন নিহত এবং বিপুলসংখ্যক লোক আহত হয়।